রুম্পাকে হত্যা করা হয়েছে, দাবি পুলিশের

রুবাইয়াত শারমিন রুম্পা (২১) পুলিশ পরিদর্শক রোকন উদ্দিনের মেয়ে। রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীর সার্কুলার রোডের আয়েশা শপিং কমপ্লেক্সের পেছনের একটি বাড়ির ছাদ থেকে তাঁকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ শুক্রবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) শেখ মোহাম্মদ শামীম এ তথ্য জানিয়েছেন।

শেখ মোহাম্মদ শামীম বলেন, ‘অপমৃত্যুর মামলা না করে রমনা থানার এসআই খায়ের বাদী হয়ে এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আমরাও ধারণা করছি, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় কে বা কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।’

রমনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে তিনটি ভবন আছে। আমরা ধারণা করছি, যেকোনো একটি ভবন থেকে তাঁকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত আমরা কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। হত্যা মামলাও হয়েছে আসামিকে অজ্ঞাত করে। ঘটনাস্থলের পাশের যে ভবনগুলো আছে, ওই ভবনের দায়িত্বে থাকা লোকদের আমরা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছি। দ্রুতই একটি ফল পাব বলে মনে হয়।’

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার রাতেই হবিগঞ্জ জেলার পুলিশ পরিদর্শক রোকন উদ্দিনকে এ ঘটনা জানানো হয়। পরে তিনি ঢাকায় আসেন। এর আগে তাঁর পরিবার লাশ শনাক্ত করে।’

মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে সব ধরনের রিপোর্ট চেয়েছি। হত্যার আগে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে কি না, সেটাও আমরা জানতে চেয়েছি।’

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে শারমিন রুম্পার লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘রুম্পাকে হত্যা করে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। প্রথম যখন আমি লাশটি দেখি, তখন লাশের দুই পা ও হাত ভাঙা দেখেছি। মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখেছি। চোখে-মুখে রক্ত লেগে ছিল। ওপর থেকে পড়লে যেমন হওয়ার কথা, আমরা তেমন লাশই পেয়েছি। তবে হত্যার আগে ওই তরুণী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমরা আলামত সংগ্রহ করেছি। আলামত পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে আসল ঘটনা জানা যাবে।’

এদিকে পুলিশ পরিদর্শক রোকন উদ্দিনের ভাই নজরুল ইসলাম বলেন, ‘হত্যার পর তাকে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে, এটা নিশ্চিত। তদন্ত চলছে, দেখা যাক কী হয়। আমার ভাতিজির সঙ্গে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির একটি ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। তাদের ভেতরে ঝামেলা চলছিল বলে আমরা শুনেছি। তবে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ওই ছেলের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা আমরা জানি না। আজ আমি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলেছি। কর্তৃপক্ষ ওই ছেলেকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।’

নজরুল ইসলাম বলেন, “তবে এ ঘটনা নিয়ে আমার ভেতরে একটি প্রশ্ন আছে। আমার ভাতিজি পাশের একটি বাড়িতে টিউশনি করতে গিয়েছিল। সেখান থেকে সন্ধ্যার দিকে নিজ বাসার নিচে যায় রুম্পা। এর পর রুম্পা দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া তার এক চাচাতো ভাইকে ফোন করে বাসার নিচে ‘স্যান্ডেল আনতে’ বলে। পরে সে স্যান্ডেল নিয়ে এলে পায়ের হিল খুলে স্যান্ডেল পরে রুম্পা। এর পর ওই চাচাতো ভাইয়ের কাছে রুম্পা কানের দুল, মোবাইল, ঘড়ি, হিল (জুতা) ও টাকাসহ ব্যাগ দিয়ে দেয়। সেগুলো ওপরে নিয়ে যেতে বলে তাকে। একই সঙ্গে মাকে বলতে বলে, তার ‘আসতে দেরি হবে’। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, কেন সে এগুলো রেখে যাবে? আত্মহত্যার পরিকল্পনা? তাই হলে তো বাড়ির ছাদ আছে। ওখানে যাবে কেন? নাকি কোনো ঝামেলা ছিল, তাই এগুলো রেখে গিয়েছিল? এসব ভালো করে তদন্ত করতে হবে।”

শারমিন রুম্পার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে। পরিবারসহ রাজধানীর মালিবাগের শান্তিবাগের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি ভবনে থাকেন তাঁরা। রুম্পা পড়তেন স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগে। আজ সকালে রুম্পাকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানার নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়।

1K
SHARES

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত