পোস্টার লাগিয়ে নেতা হওয়া যায় না: ওবায়দুল কাদের

দীর্ঘ ২৭ বছর পরে বদল হল পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব। নয়া নেতৃত্বে উচ্ছ্বসিত পটুয়াখালীর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ।

সোমবার পটুয়াখালী শিশু আলাউদ্দিন শিশু পার্কে আয়োজিত সম্মেলনে এ কমিটির ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ওবায়দুল কাদের বলেন, বসন্তের কোকিল দলে টেনে ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করে দল ভারি করার দরকার নেই। বিলবোর্ডে ছবি ও স্লোগান দিয়ে, পোস্টার লাগিয়ে নেতা হওয়া যায় না। কর্মীরা ঠিক আছে, সব গোলমালের উৎস হচ্ছে এই মঞ্চ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নেতারা ঘরের মধ্যে ঘর করে মশারির মধ্যে মশারি, আত্মীয়করণ করে চৌদ্দপুরুষকে নিয়ে পকেট কমিটি করে! পকেট কমিটি চলবে না, কমিটি করতে গিয়ে খারাপ মানুষদের দলে টানা যাবে না। অনেক ত্যাগীরা কমিটিতে জায়গা পায়নি তাদের যায়গা করে দিতে হবে। কর্মীদের কোণঠাসা করে আওয়ামী লীগ বাঁচবে না বলে মন্তব্য তিনি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নকে বাঁচাতে হলে শেখ হাসিনাকে বারবার ক্ষমতায় আনতে হবে। বিগত ৪৪ বছরে বাঙালি জাতির ইতিহাসে সাহসী রাজনীতি ও সফল নারী নেতৃত্বের অধিকারী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচিয়ে রাখুন। দেশের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদদের বিরুদ্ধে রুক্ষে দাঁড়াতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করুন।

বিকাল ৩টার পরে দ্বিতীয় অধিবেশনে পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীরকে সভাপতি এবং যুগ্ম-সম্পাদক ভিপি আবদুল মান্নানকে সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা দেন ওবায়দুল কাদের।

এর পূর্বে শহরের শহীদ আলাউদ্দিন শিশুপার্কে বেলুন, শান্তির পায়রা আর জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করেন পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পটুয়াখালী-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ, আবদুর রহমান, তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আফজাল হোসেন, উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, সদস্য গোলাম রাব্বানী চিনু প্রমুখ।

এ ছাড়াও দ্বিতীয় অধিবেশনে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরোয়ারকে এক নম্বর যুগ্ম-সম্পাদক ও বাউফল উপজেলা পৌর মেয়র জিয়াউল হক জুয়েলকে দুই নম্বর যুগ্ম-সম্পাদক করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৯২ সাল থেকে পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব পালন করছেন পটুয়াখালী এক আসনের এমপি অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া।

দীর্ঘ ২৭ বছর পরে জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ পদে বদল হওয়ায় জেলা আওয়ামী লীগের মধ্য আনন্দ-উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। ২০১৭ সালের নভেম্বরে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা খান মোশাররফ হোসেন মৃত্যুবরণ করলে ওই পদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর হোসেন।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত