রাত জেগে মোবাইল ঘাঁটলে ক্যা’নসারের ঝুঁ’কি বাড়ে

রাত জেগে স্মার্ট ফোনে চ্যাটের অভ্যাস এখন ঘরে ঘরে৷ সোশ্যাল নেটওয়ার্কের হাতছানি শুধু নবীনদের নয়, জাল বিছিয়েছে প্রবীণদের দিনযাপনেও। বিছানায় শুয়ে ট্যাবে বই পড়ার নে’শা কিংবা কমপিউটার বা টিভি স্ক্রিনে অপলক চোখ রাখার নজিরও বিরল নয় এতটুকু। আর এতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, না ঘুমিয়ে মোবাইল ঘাঁটাঘাঁটি করলে ক্যা’নসারের ঝুঁ’কি বাড়ছে। এছাড়াও চোখে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে এলইডি-র নীল আলোকে ক্যা’নসারের অন্যতম কারণ।

চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, রাতের বেলার শুয়ে স্মার্ট ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারই ডেকে আনছে বিপত্তি। কারণ ফোনের ওই নীল রং মস্তিষ্কের কাজে বাধা দেয়। ফলে ঘুম আসতে দেরি বয়। এছাড়াও চোখের মধ্যে রক্ত সঞ্চালন ব্যহত হয়। ই-বুকে একলাইন পড়তে যে সময় লাগে, বই পড়তে তার চেয়ে অনেক কম সময় লাগে।

রাত জেগে মোবাইল ঘাঁটলে ক্ষুধার কারণে ভুলভাল খেয়ে ফেলা হয়। যেখান থেকে টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিসের আশঙ্কা থাকে। সেইসঙ্গে শারীরিক নানা সমস্যা তো রয়েছেই।

চিকিৎসকদের মতে, রাতে শুয়ে স্মার্ট ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার চোখের নানা সমস্যা তৈরি করে। ফোন থেকে বের হওয়া নীল রশ্মি মস্তিষ্কের কাজে বাঁধা দেয়। এতে রাতের ঘুম ব্যাহত হয়। এছাড়া চোখে রক্ত সঞ্চালনও ব্যাহত হয়।

মাথা ঝুঁ’কিয়ে দীর্ঘ সময় মোবাইল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে কাঁধের দিক থেকে ওজন সরাসরি মেরুদণ্ডের উপর না পড়ে পড়ছে ঘাড় ও মাথার পিছনের পেশীতে। ফলে প্রতিনিয়ত ঘাড় ও মাথার সংযোগস্থলকে অতিরিক্ত চাপ বহন করতে হচ্ছে।

এতে করে শরীরের ওই অংশের টেন্ডন ও লিগামেন্টের উপর খারাপ একটি প্রভাব পড়ছে। ক্রমাগত শরীর চাপের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে গিয়ে ওই সংযোগস্থলের চামড়া শক্ত হয়ে গিয়ে এই প্রবর্ধনের সৃষ্টি করছে। বিজ্ঞানীরা এই প্রবর্ধনের নাম দিয়েছেন ‘হেড হর্ন’, ‘ফোন বোনস’ কিংবা ‘উইয়ার্ড বাম্পস’। তবে এই সমস্যার আনুষ্ঠানিক নামকরণ এখনও করা হয়নি।

চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিচ্ছেন, ঘুমোতে যাওয়ার দুঘন্টা আগে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার করবেন না। এতে ঘুমের ব্যা’ঘাত হয়। যেখান থেকে শরীরের নানা সমস্যা আসে। এমনকী দুরা’রোগ্য ব্যধি পর্যন্ত হতে পারে। আপনারও এই অভ্যাস থাকলে এখনই সাবধান। ঘুমোতে যাওয়ার আগে মোবাইল ব্যবহার করলে এখনই বন্ধ করুন। ই-বুক না পড়ে আলাদা করে বই পড়ুন।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত