আজ কলকাতায় মমতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক

আজ শুক্রবার থেকে কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে শুরু হচ্ছে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দিবারাত্রির গোলাপি বলের টেস্ট ম্যাচ। ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে ইডেনে আজ বসছে চাঁদের হাট। যেখানে উপস্থিত থাকবেন ভারতের একাধিক তারকা খেলোয়াড়সহ ২০০০ সালের ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার প্রথম টেস্ট ম্যাচের সব ক্রিকেটার। একই সঙ্গে ইডেনে ‘গোলাপি টেস্ট’ ম্যাচ দেখতে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও।

আজ ইডেনে একসঙ্গে বসে ম্যাচ দেখবেন শেখ হাসিনা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এরই মধ্যে শেখ হাসিনা তাঁকে ফোন করেছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘শুধু ইডেনে বসে একসঙ্গে খেলা দেখা নয়, আগামীকাল (আজ) মোট তিনবার শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা হবে আমার।’

ইডেনে খেলা দেখা ছাড়াও আজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একটি কূটনৈতিক বৈঠকও করবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ সন্ধ্যা ৬টায় দক্ষিণ কলকাতার তাজ বেঙ্গল হোটেলে বৈঠকটি হওয়ার কথা রয়েছে। মমতার সঙ্গে শেখ হাসিনার এই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে রয়েছে অনেকেই। কূটনৈতিক দিক থেকে এই বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

এর আগে শেখ হাসিনা যখন দিল্লিতে এসেছিলেন, তখন ফোনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁর। সে সময় তিস্তার পানি বণ্টনের বিষয়টি নিয়ে কথা হয় দুজনের। দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ তিস্তার পানি পাওয়ার জন্য দাবি জানিয়ে আসছে। এই বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত হয়ে রয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন বাংলাদেশে গিয়েছিলেন, তখন তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন যে তিস্তার পানি বাংলাদেশকে দেওয়া হবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেটি বাস্তবায়িত হয়নি। সে ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিস্তার পানি বাংলাদেশকে দেওয়ার ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই আপত্তি জানিয়ে এসেছেন। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গে পানির সমস্যা হয়ে যাবে বলে বারবার সরব হয়েছেন মমতা। ফলে বিষয়টি এখনো ঝুলে রয়েছে। আজকের বৈঠকে তিস্তার পানি বণ্টনের বিষয়টি উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাশাপাশি আরো যে দুটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে, তার একটি হলো নাগরিকপঞ্জি এনআরসি ইস্যু ও অন্যটি সীমান্ত সমস্যা। দিল্লিতে বৈঠকের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে বাংলাদেশে কাউকে ফেরত পাঠানো হবে না। এরই মধ্যে গত বুধবার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সারা দেশে এনআরসি চালু হবে বলে ঘোষণা করেছেন। তাই এনআরসি ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা হতে পারে মমতার সঙ্গে। একই সঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সীমান্ত সমস্যা নিয়েও কথা হতে পারে। এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সংশোধনাগারে বেশ কিছু বাংলাদেশি রয়েছেন। তাঁদের প্রত্যর্পণের বিষয়েও কথা হতে পারে।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত