পেঁয়াজের দাম ভারতেও বেড়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

চাহিদার তুলনায় কম উৎপাদন ও ভারত রফতানি বন্ধ করে দেয়ায় হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারেও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশনে আনোয়ার হোসেন খানের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী একথা বলেন। তিনি বলেছেন, দেশে বর্তমানে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা ২৪ লাখ মেট্রিক টন। আর গত বছর পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ২৩ দশমিক ৩০ লাখ মেট্রিক টন।

এর মধ্যে মধ্যে ৩০ শতাংশ সংগ্রহকালীন এবং সংরক্ষণকালীন ক্ষতি বাদ দিলে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ১৬ দশমিক ৩১ লাখ মেট্রিক টন। যা দিয়ে চাহিদা মেটানোর পক্ষে যথেষ্ট নয় বলে জানান মন্ত্রী। মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হূমায়ুন প্রশ্নের জবাব দেন। মন্ত্রী বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ বিশেষ করে ভারত থেকে প্রতিবছর নির্দিষ্ট পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। সম্প্রতি ভারতের মহারাষ্ট্রে বন্যা হওয়ার কারণে পেঁয়াজের ফলন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে তাদের অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের ফলন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, তাদের অভ্যন্তরীণ বাজারেও পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ভারত সরকার গত ১৩ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজের সর্বনিম্ন রফতানি মূল্য প্রতি টন ৮৫০ ডলার নির্ধারণ করেছে। যা পূর্বে প্রতি মেট্রিক টন ছিল ২৫০-৩০০ ডলার। সে দেশে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পেঁয়াজের রফতানি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে বাংলাদেশে পেঁয়াজের বাজার ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। এছাড়া বিশ্ব বাজারে রসুনের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে।

পেঁয়াজ রসুনের দাম ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে প্রতিদিন চারটি করে মোট ২৮টি মনিটরিং টিম ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন বাজারে মূল্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। এছাড়া টিসিবির ডিলারদের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে ঢাকা মহানগরীতে ৩৫টি পয়েন্টে ন্যায্য মূল্যে ট্রাক সেলের মাধ্যমে খোলা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে।

মিসর ও তুরস্ক থেকে আমদানির জন্য প্রতিষ্ঠিত আমদানিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তাছাড়া ভারত কর্তৃক বাংলাদেশে পেঁয়াজের রফতানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য দিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের কমার্শিয়াল কাউন্সিলরের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত