বাজারে নতুন পেঁয়াজ, লাভবান কৃষকরা

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে হাট-বাজারে অপরিপক্ব পেঁয়াজ এখন ৫০ টাকা কেজি দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। গত এক মাসের বেশি দিন ধরে পেঁয়াজের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় খেটে খাওয়া নিম্নআয়ের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। এখন স্বস্তি খুঁজতে একটু কম দামে পাতাসহ পেঁয়াজ কিনতে পারছে মানুষ।

আগাম শীত মৌসুমে সিংগাইর উপজেলার সবজি চাষিরা বেশিদাম পাওয়ার জন্য প্রতিদিন ভোরে জমির সবজিগুলো ঢাকার কারওয়ানবাজারে নিয়ে বিক্রি করছে। এর মধ্যে নিম্মমানের সবজি স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে কৃষকরা। সরেজমিন উপজেলার সাহরাইল বাজার, জয়মন্টপ বাজার, ধল্লা বাজার, জায়গীর স্ট্যান্ডে শীতকালীন আগাম সবজিতে ভরপুর থাকলেও পাতাযুক্ত পেঁয়াজের চাহিদা বেশি থাকায় বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি।

কৃষকরা ঝুড়িতে করে বাজারে পেঁয়াজ আনতেই ব্যাপারী ও ক্রেতারা যেন হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। গত দুই সপ্তাহ ধরে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে নতুন পাতাওয়ালা পেঁয়াজ। দাম বেশি পাওয়ায় চাষিরা ক্ষেত থেকে অপরিপক্ব পেঁয়াজ তুলেই বাজারে পাঠাচ্ছেন।

কথা হয় উপজেলার কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে। তারা জানান, এ বছর প্রতিবিঘা জমিতে চাষ করেছিলেন আগাম জাতের পেঁয়াজ। বাজারে ভালো দাম থাকায় এবার আগেভাগেই ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ তুলেছি। অর্ধেক জমির পেঁয়াজ প্রায় ৫০ হাজার টাকা বিক্রি করেছি। এবারে ভালো দাম পেয়েছি। আবার অনেকে এই পেঁয়াজ দুই সপ্তাহ পর তুলবেন। আবার ক্ষেত থেকে পাকিয়েও তুলবেন অনেকে।

কৃষকরা জানান, গত বছর এই সময় পেঁয়াজের দাম ছিল মাত্র ১০-১৫ টাকা কেজি। বর্তমানে কাঁচা পেঁয়াজই ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে বেশ চাহিদা আছে নেয়ামাত্রই বিক্রি হয়ে যায়। চারিগ্রাম বাজারে সবজি বিক্রেতা রফিকুল জানান, আমি সাহরাইলবাজার থেকে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় পাইকারি হিসেবে কিনে বেশি দামে বিক্রি করছি। সোমবার সকালে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাসুদুজ্জামান জানান, শীতকালীন আগাম সবজি চাষ করে এখানকার কৃষকরা লাভবান। বেশিরভাগ সবজি রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে যায়। এবার মুড়ি জাতের পেঁয়াজ চাষ করে কৃষকরা বেশ লাভবান হয়েছেন।

তিনি বলেন, স্থানীয় বাজারগুলোতেও অনেকটা স্বস্তি ফিরেছে। যেখানে শুকনো পেঁয়াজ ১৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, সেখানে প্রতি কেজি পাতা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৪৫-৫০ টাকা দরে।

উপজেলা কৃষি অফিসার টিপু সুলতান স্বপন জানান, বর্তমানে পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ায়। অপরিপক্ব পেঁয়াজ জোগান এটা ভালো একটা দিক। মানুষ অর্ধেক দামে পেঁয়াজ কিনতে পারছেন। কৃষকরাও লাভবান হচ্ছেন। তাছাড়া পাতা পেঁয়াজ ওঠানোর পর কৃষকরা সেই জমিতে পুনরায় পেঁয়াজ চাষ করবেন।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত