গ্রিসে লরি থেকে ৪০ শরণার্থী উদ্ধার

সম্প্রতি ব্রিটেনে একটি লরি থেকে ৩৯ শরণার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনা নিয়ে তোলপাড়ের মধ্যেই ফ্রান্সে একটি লরি থেকে ৩১ পাকিস্তানি শরণার্থীকে জীবিত উদ্ধার করে পুলিশ। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গ্রিসে একটি শীতল লরি থেকে ৪০ শরণার্থীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উত্তর গ্রিসের জান্থি শহরে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ৪০ জনের মধ্যে প্রত্যেকেই শরণার্থী। জান্থি শহরে তল্লাশির জন্য একটি লরিকে দাঁড় করায় পুলিশ। তল্লাশির সময় দেখা যায়, হিমঘরের মতো শীতল ট্রাকের ভিতরে লুকিয়ে রয়েছেন ৪১ জন শরণার্থী। অভিবাসীদের বেশিরভাগই আফগানিস্তানের নাগরিক।

গ্রিক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উদ্ধার করা শরণার্থীদের প্রত্যেকেই সুস্থ আছেন। নিয়মিত চেকিংয়ের অংশ হিসেবে উত্তরাঞ্চলীয় জান্থি শহরের কাছে লরিটিকে থামানো হয়। পরে চালককে গ্রেপ্তার করে এবং অভিবাসীদেরকে শনাক্তের জন্য পাশের পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়।

সাম্প্রতিককালে গ্রিসের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হল বিভিন্ন দেশ থেকে আসা শরণার্থীরা। ২০১৫ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ ইউরোপের ঢোকার আশায় তুরস্ক থেকে রওনা হয়ে গ্রিসে পৌঁছে আটক হয়েছেন। তুরস্কের কাছাকাছি এজিয়ান দ্বীপের একাধিক শিবিরে প্রায় ৩৪ হাজার আশ্রিত এবং শরণার্থীকে আটক রেখেছে গ্রিস সরকার।

ইউরোপে প্রবেশের জন্য বিভিন্ন দেশের শরণার্থীরা নানা ধরণের পদ্ধতি গ্রহণ করে। এসব পদ্ধতির মধ্যে অন্যতম বিভিন্ন পণ্যের শীতল ও সীলগালা লরিগুলো। এগুলোকে সাধারণত চেকপোস্টে খুব একটা খোলা হয়না। যার কারণে দালালরা চুক্তিতে এর ভেতর করে ইউরোপে শরণার্থীদের পৌঁছে দেন। তবে এই যাত্রা কখনো কখনো ভয়ানক রূপ নেয়। কারণ অত্যান্ত শীতল লরির ভেতর ঘণ্টার পর ঘণ্টা যাত্রা করতে গিয়ে বেশিরভাগই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত