অ্যালার্জি হলে যে পরীক্ষাগুলো করা প্রয়োজন

কথায় কথায় অ্যালার্জি। চোখ চুলকালে- চোখের অ্যালার্জি, নাক চুলকালে- নাকের অ্যালার্জি, শরীরের চামড়ায় চুলকাতে থাকলে এবং তার সঙ্গে চাক চাক হলে ত্বকের অ্যালার্জি, দীর্ঘদিন ধরে খুশ-খুশানি কাশি থাকলে ওষুধে সহসা না কমলে এবং ধুলাবালি বা ফুলের রেণুর সংস্পর্শে বেশি হলে তাকে অ্যালার্জিক কাশি বলে থাকে।

ওষুধ দিয়ে অ্যালার্জির উপসর্গ কিছু দমানো যায়, কিন্তু সম্পূর্ণ সুস্থতা করা যায় না। অ্যালার্জির উপসর্গ কমাতে হলে অ্যালার্জির কারণ জানতে হবে এবং অ্যালার্জির কারণ জানার জন্যই দরকার অ্যালার্জি টেস্ট বা অ্যালার্জি পরীক্ষা-নিরীক্ষা।

অ্যালার্জি রোগীদের শরীরে কিছু কিছু জিনিসের কারণে প্রতিক্রিয়া হয়। কোনো জিনিস যখন শরীরে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া বাড়িয়ে দেয় তখন তাকে অ্যালার্জেন বলা হয়। রোগী ঠিক কোন কারণে অ্যালার্জি আক্রান্ত হয়, তা নির্ধারণ করার জন্য অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগীর ত্বক বা রক্ত নিয়ে পরীক্ষা করান।

কাদের অ্যালার্জি টেস্ট করা প্রয়োজন?

বয়স্ক বা শিশু যেই হোক না কেন, অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হলে বিশেষত-

-অ্যাজমা

-অ্যালার্জিক রাইনাইটিস

-এটোপিক ডার্মাটাইটিস

-আটিকেরিয়া

-অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস

অ্যালার্জি টেস্টের প্রয়োজন কেন?

রোগীর অ্যালার্জির সঠিক চিকিৎসা করতে হলে চিকিৎসককে প্রথমে জানতে হবে ঠিক কোন জিনিসটির দ্বারা অ্যালার্জি সংঘটিত হচ্ছে। অ্যালার্জি টেস্ট সঠিক এবং প্রত্যক্ষভাবে নির্ধারণ করে দেয় যে কিসে কিসে অ্যালার্জি এবং কিসে কিসে অ্যালার্জির ভয় নেই। যদি সুনির্দিষ্ট অ্যালার্জেনগুলোকে শনাক্ত করা যায়, তাহলে রোগীর জন্য সঠিক চিকিৎসার পরিকল্পনা করা সম্ভব হয়। রোগীর অ্যালার্জি উপসর্গগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে তার জীবনধারায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। শ্বাসতন্ত্রের সংকোচন না থাকলে রোগীর ঘুম ভালো হয়, নাক দিয়ে দিনভর সর্দি গড়ানো কিংবা হাঁচি থেকে মুক্তি পাওয় যায়, রোগীর ব্যায়াম করার শক্তি এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস না থাকলে রোগী স্বাভাবিক জীবনে অনেক স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

কী কী অ্যালার্জেন দিয়ে অ্যালার্জি পরীক্ষা করা হয়?

ডাস্ট ও ডাস্ট মাইট, ফুলের রেণু, ফাঙ্গাস, ইনসেক্ট, ডেন্ডার ও বিভিন্ন ধরনের খাদ্য দিয়ে।

অ্যালার্জি টেস্টের প্রকারভেদ :

স্কিন প্রিক পদ্ধতি : এই পদ্ধতিতে সামান্য পরিমাণ অ্যালার্জেন রোগীর ত্বকের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। যদি রোগীর অ্যালার্জি থাকে, তাহলে তার শরীরে সুনির্দিষ্ট ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাবে।

অ্যালার্জি রোগীদের শরীরে অ্যালার্জি অ্যান্টিবডি থাকে, যার নাম ইমুনোগেল্গাবিউলিন-ই বা আইজি-ই। এই দ্রব্যটি রোগীর শরীরের মাস্ট কোষকে সক্রিয় করে তোলে, তখন মাস্ট কোষ কিছু রাসায়নিক দ্রব্য উৎপাদন করে, যাদের বলা হয় কেমিক্যাল মেডিয়েটর বা রাসায়নিক মাধ্যম। এ রকম একটি দ্রব্য হচ্ছে হিস্টামিন। হিস্টামিনের কারণেই অ্যালার্জির জায়গায় ত্বক ফুলে ওঠে ও লাল হয়ে যায়। পরীক্ষার সময় ত্বকের শুধু সেই জায়গাতেই এ ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, যেখানে অ্যালার্জেন ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এই পরীক্ষা সম্পন্ন করতে ২০-৩০ মিনিটের বেশি সময় লাগে না। ফলে রোগীকে লম্বা সময় অপেক্ষা করতে হয় না। তা ছাড়া এই পরীক্ষার সময় শরীরে (ত্বকে) যে প্রতিক্রিয়া হয় তা ১ ঘণ্টার মধ্যেই স্বাভাবিক হয়ে যায়।

স্ক্যাচ টেস্ট : এই টেস্ট সব সময় করা হয় না। এই পরীক্ষার সময় রোগীর শরীর বা ত্বকে আঁচড় কাটা হয়। তারপর আঁচড়ের ক্ষতের ওপর অ্যালার্জেন ঢেলে দেওয়া হয়।

চ্যালেঞ্জ টেস্ট : এ ক্ষেত্রে সন্দেহকৃত অ্যালার্জেন রোগীকে খাইয়ে দেওয়া হয়। সচরাচর খাদ্য অ্যালার্জির ক্ষেত্রে এই টেস্ট করা হয়। এই পরীক্ষা করার সময় রোগীর পাশে অবশ্যই ডাক্তারকে উপস্থিত থাকতে হবে।

রক্তের স্পেসিফিক আইজি টেস্ট : এই পরীক্ষার জন্য রক্ত নিতে হয়। এতে অ্যালার্জেনের সুস্পষ্ট কারণ বের করা যায়। এই টেস্ট করতে একটু ব্যয়সাপেক্ষ। ত্বকের অ্যালার্জি পরীক্ষা করতে কোনো কারণে অসম্ভব হলে তখন এই পরীক্ষা করা হয়। অল্প বয়স অর্থাৎ ৫ বছরের কম, বৃদ্ধ রোগী এবং যারা ত্বকের ওপর প্রিক টেস্ট করতে ভয় পান তাদের জন্য বিশেষভাবে প্রযোজ্য। আগে এই টেষ্ট করার জন্য পার্শ্ববর্তী দেশসহ অন্যান্য দেশে গিয়ে করতে হতো। এজেন্টের মাধ্যমে বিদেশ থেকে করিয়ে আনা হতো, এতে খরচও বেশি হতো এবং সময়ও বেশি লাগত।

কোথায় অ্যালার্জি টেস্ট হয়?

সাধারণত কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এই অ্যালার্জি টেস্ট হয় না। শুধু অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞ কিছু ডাক্তারের চেম্বারে ডাক্তার নিজেই এই অ্যালার্জি পরীক্ষা করে থাকেন। অনেকের ধারণা, অ্যালার্জি টেস্ট বাংলাদেশে হয় না, তাই বিদেশে গিয়ে এই টেস্ট করে থাকেন। অ্যালার্জি রোগীদের জন্য সুখবর, অ্যালার্জি টেস্ট এখন বাংলাদেশেই হচ্ছে।

অ্যালার্জি টেস্ট করা কেন দরকার?

অ্যালার্জি টেস্ট করে অ্যালার্জি জাতীয় জিনিস পরিহার করে চলা, ওষুধ এবং ওই নির্দিষ্ট অ্যালারজেনের ভ্যাকসিন প্রয়োগ করলে অ্যালার্জিজনিত রোগ বিশেষত, অ্যাজমা, অ্যালার্জিক রাইনাইটিস, যে রোগগুলো রোগীকে দুর্বিষহ করে তুলে তা থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত