‘দেশের মালিক জনগণ, তাদের হাতে দেশের মালিকানা ফিরিয়ে দিন’

সরকারকে দ্রুত সরে গিয়ে নির্বাচন দেয়ার আহবান জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘সময় থাকতে মাথা ঠাণ্ডা করে পদত্যাগ করুন। আপনারা যেগুলো করছেন এসব করে বার বার পার পাওয়া যাবে না। আপনারা দ্রুত সরে যান। দেশের মালিক জনগণ। তাদের হাতে দেশের মালিকানা ফিরিয়ে দিন’। রোববার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যার বিচারের দাবি ও শোক র‌্যালিপূর্ব সমাবেশে তিনি একথা বলেন।

এ সময় বিএনপি চেয়ারসন খালেদা জিয়া সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন- জানিয়ে তার মুক্তির দাবির সঙ্গেও একমত পোষণ করেন ড. কামাল হোসেন। কুষ্টিয়ায় আবরারের বাড়িতে যাওয়ার সময় বিএনপি নেতাদের বাধা দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ড. কামাল হোসেন বলেন, যারা এই বাধা দিচ্ছে সবাই তাদের তালিকা করে রাখেন। এসব সাংবিধানিক অধিকারে বাধাদানকারীদের কড়া শাস্তি হবে।

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরারকে যেভাবে হত্যা করা হলো এরা কি মানুষ- প্রশ্ন করে ড. কামাল বলেন, এই ছেলেদের আমরা পশু বানাচ্ছি কেন? কারা এদেরকে পশু বানাচ্ছেন? বাংলার এই ছেলেরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিল স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল। এরা সৎ সাহসী ছেলে। এদেরকে আপনারা পশু বানিয়েছেন। যারা মানুষকে অমানুষ বানাচ্ছেন, আপনাদের কি শাস্তি হবে সেটা চিন্তা করেন। কোনো ছেলে পশু হয়ে মায়ের পেট থেকে জন্ম নেয় না। যেসব লোক মানুষকে পশু বানাচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করুন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ১৬কোটি মানুষের দেশ এখানে কতিপয় লোককে রাষ্ট্রক্ষমতার প্রশ্রয় দিয়ে পশু বানানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় যে দলের নামে এখন দেশ শাসন করছে এই দলে তো আমরা সবাই ছিলাম। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশকে স্বাধীন করেছিলাম। তাজউদ্দীন, নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে। সেই দলের নামে যে কাজগুলো হচ্ছে সেটাতে বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দীন, নজরুল ইসলামকে অসম্মান করা হচ্ছে। অসম্মান করা হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে।

আবরারকে যারা হত্যা করেছে তারা কার আদর্শের অনুসারী প্রশ্ন করে ড. কামাল বলেন, যিনি দেশ শাসন করছেন তার আদর্শের অনুসারী। এই কি আপনার আদর্শ? এই যদি আপনার আদর্শ হয়ে থাকে তাহলে আর এক মুহূর্তও আপনার সিংহাসনে থাকা উচিত না। তিনি বলেন, এই সভায় যারা আছেন সবাই বলছে আল্লাহর ওয়াস্তে আপনি দেশ শাসন করা থেকে সরে দাঁড়ান। নির্বাচন হোক। দেশকে শাসন করবে দেশের মানুষ। সাধারণ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে তারা ঠিক করবে কে দেশ শাসন করবে।

২৯-৩০ ডিসেম্বর কি কোনো নির্বাচন হয়েছিল প্রশ্ন করে তিনি বলেন, আপনি যে ৩০ তারিখে বললেন আমাকে তৃতীয়বার নির্বাচিত করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। কে আপনার ধন্যবাদ গ্রহণ করবে। আমি সাক্ষী দেব তৃতীয়বার আপনাকে কেউ নির্বাচিত করেনি। আপনি নাটক করেছেন, আপনিতো নাট্যকার কোনো নেত্রী না। আপনি নিজে মিথ্যার শিকার হয়েছেন। এতে ভয়াবহ পরিণতি হবে।

বক্তব্য শেষ করার আগে ড. কামাল হোসেন বলেন, খালেদা জিয়ার বেঁচে থাকা নিয়ে সবাই আশংকা করছেন। তিনি বিরোধী দলের নেতা ও তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। অসুস্থ হওয়ার পরে ওনাকে মুক্ত করা হবে না, তিনি চিকিৎসা পাবেন না এটা আমাদের সভ্যতা ও সংবিধান বিরোধী। আমি তার মুক্তির বিষয়ে সবার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করছি।

নাগরিক ঐক্যর আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দফতর প্রধান জাহাঙ্গীর আলম মিন্টুর পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- জেএসডির সভাপতি আসম আব্দুর রব, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জেএসডি সহসভাপতি তানিয়া রব, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্যর উপদেষ্টা এসএম আকরাম, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, বিএনপির মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি নবী উল্লা নবী, সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আগামী ১৮ অক্টোবর আবরার হত্যার প্রতিবাদে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে রাজধানীর যেকোনো স্থানে নাগরিক শোকসভা হবে। পরে একটি শোকর‌্যালি প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ হাইকোর্ট মোড়ে তাদের আটকে দেয়। সেখানে দাঁড়িয়ে জেএসডি সভাপতি আসম আব্দুর রব বলেন, আবরার হত্যার প্রতিবাদে আগামী ২২ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাগরিক সভা হবে। সূত্র : যুগান্তর

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত