বিমানবন্দরে সেলিম পেতেন ভিআইপি প্রটোকল

অনলাইন ক্যাসিনোর ‘মূল হোতা’ সেলিম প্রধান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভিআইপি প্রটোকল পেতেন। বিধি মোতাবেক ভিআইপি না হয়েও অবৈধ ক্ষমতার দাপটে তিনি এই ‘ভিআইপি মর্যাদা’ ভোগ করতেন। তিনি কাউকে তোয়াক্কা করতেন না। তার দাপটের কাছে অসহায় ছিলেন বিমানবন্দর কর্মীরা। দেশে শুদ্ধি অভিযান চলাকালে গত সোমবার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সময় থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট থেকে সেলিম প্রধানকে নামিয়ে এনে গ্রেফতার করা হয়।

বিমানবন্দরের ভুক্তভোগী কর্মীরা জানান, সেলিম প্রধানকে গ্রেফতারের পর তারা স্বস্তিতে আছেন। সেলিম প্রধান ভিআইপি না হয়েও অদৃশ্য খুঁটির জোরে বিদেশে যাতায়াতের সময় বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করতেন। শুধু তাই নয়, সংসদ সদস্য না হয়েও তিনি গাড়িতে জাতীয় সংসদের স্টিকার ব্যবহার করতেন।

অভিযোগ উঠেছে, সমাজে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে সেলিম প্রধান নিজেকে ভিভিআইপি মনে করতেন। তার ক্ষমতা এবং দাপটের কাছে অসহায় ছিলেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বহু কর্মকর্তা, গোয়েন্দা ও বিমানবন্দরের কর্মীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্নিষ্ট ভুক্তভোগী পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, সেলিম প্রধান ভিআইপি নন, তারপরও বিমানবন্দরে প্রবেশে তিনি পুলিশ ব্যবহার করতেন। তাকে প্রটোকল দিতে আসার সময় ২-১ মিনিট দেরি হলে তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার কাছে ফোন যেত। তিনি অভিযোগ করতেন।

এ ব্যাপারে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মেহবুব খান সমকালকে বলেন, ক্যাসিনোর সেলিম প্রধান ভিআইপি যাত্রী নন। বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারে তাকে কখনও অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে অনেক সময় কিছু পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তার সহযোগিতায় সেলিম প্রধান বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেছেন। এ সময় আসলে কর্মীদের করার কিছু ছিল না। এ ছাড়া ওইসব পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার সহযোগিতায় বিমানবন্দর ভিআইপি ইমিগ্রেশন কাউন্টারে সেলিমের পাসপোর্ট সিল করানো হয়।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ গত ৩০ সেপ্টেম্বর গ্রেফতারের আগে তিনি বিমানন্দরের ভিআইপি গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। কিন্তু নিরাপত্তা কর্মীদের আপত্তির মুখে তিনি একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তার সহযোগিতায় সিআইপি গেট দিয়ে ভিআইপি লাউঞ্জে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি থাই বিমানে লাগেজ বুকিং দিয়ে বোর্ডিংকার্ড সংগ্রহ করেন। বিমানবন্দরের ভিআইপি ইমিগ্রেশন কাউন্টার থেকে পাসপোর্ট সিল করে থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২২ নম্বর ফ্লাইটে উঠে বসেন। ফ্লাইটটি উড়াল দেওয়ার আগ মুহূর্তেই ওই ফ্লাইটে তল্লাশি চালিয়ে ‘অনলাইন ক্যাসিনো সম্রাট’ সেলিম প্রধানকে নামিয়ে আনেন র‌্যাব কর্মকর্তারা।

এরপর সেলিমের রংমহলে অভিযান চালায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। নগদ টাকাসহ সেলিম প্রধানের হেফাজত থেকে দুটি হরিণের চামড়া উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাকে তাৎক্ষণিক ছয় মাসের কারাদ দেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়া গুলশান থানায় মানি লন্ডারিং আইন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

সমকাল

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত