বাণিজ্য মেলায় শেষ মুহূর্তে অফারের ছড়াছড়ি

প্রকাশিত: জানু ২৩, ২০২৩ / ০১:২৭অপরাহ্ণ
বাণিজ্য মেলায় শেষ মুহূর্তে অফারের ছড়াছড়ি

ঢাকা: বাণিজ্য মেলার ২১তম দিন। প্রায় শেষ মুহূর্তে মেলায় ক্রেতা দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

ছুটির দিন হওয়াতে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড়ে মেলা প্রাঙ্গণে তিল ধরার ঠাঁই নেই।
মেলার শেষ মুহূর্তের নানা অফারে আকৃষ্ট হয়ে গৃহবধূরা কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। বাসা বাড়ির সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য তারা ক্রোকারিজ আইটেম, হোমটেক্সটাইলসহ (চাদর এবং বালিশের দোকান) কার্পেটের দোকানগুলোতে ভিড় করছেন। সেখানে তারা তাদের পছন্দের পণ্যগুলো দেখছেন। পছন্দ হলে কেউ আবার কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

প্রতিবার মেলায় শেষ দিকে বেচা-বিক্রি বাড়ানোর জন্য বিক্রেতারা নানা অফার দিয়ে থাকেন। কোনো কোনো বিক্রেতা একটি পণ্যের সঙ্গে একটি পণ্য ফ্রি দিচ্ছেন। অনেকে তাদের পণ্য প্যাকেজ (১টির সঙ্গে ৫/১০ গিফট) আকারে বিক্রি করছেন।

আবার কেউ কেউ পণ্যের মূল্যের উপর সরাসরি ১০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছেন। এবার শুরুর দিকে ক্রেতা ও বিক্রি কম হলেও শেষের দিকে বেচাকেনা ভালো হওয়ায় বিক্রেতারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। এবারের বাণিজ্য মেলায় বিক্রি ১৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।

শনিবার (২১ জানুয়ারি) সরেজমিনে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পূর্বাচলে অবস্থিত ২৭তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ঘুরে শেষ মুহূর্তের কেনাবেচার এমন চিত্র দেখা গেছে।

শুরুর দিকে বাণিজ্য মেলায় শুধু আশপাশের এলাকার মানুষকে আসতে দেখাগেলেও এখন দূরদূরান্ত থেকেও অনেকে আসছেন। ছুটির দিন হওয়াতে কেনাকাটার পাশাপাশি মেলায় অনেকে ঘুরতে আসছেন।

মেলায় ঘুরতে আসা বেশিরভাগ দর্শনার্থীরা বলছেন, যোগাযোগ সুবিধা ও মেলার পরিবেশ ভালো থাকায় পরিবার, আত্মীয় ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে মেলায় বেড়াতে এসেছেন। সন্ধ্যার পরেই আবার ফিরে যাবেন বাড়িতে।

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে মেলায় কার্পেট কেনার জন্য এসেছেন গৃহবধূ মিতা খান। তার সঙ্গে কথা হয় তার্কিশ কার্পেটের স্টলের সামনে। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, এসব বাহারি ডিজাইনের কার্পেটগুলো মূলত ড্রয়িং রুমে শোভা পায়।

আমি মেলা থেকে ২টা কার্পেট কেনার জন্য এসেছি। একটা ফ্লোরের জন্য আরেকটা দেয়ালে ওয়ালমেট হিসেবে টানানোর জন্য। তবে দেয়ালেরটা পছন্দ করতে পারিনি। তবে বিদেশি কার্পেটের মান ভালো হলেও বিক্রেতারা দাম বেশি চাচ্ছে।

তার্কিশ কার্পেটের সহকারী ব্যবস্থাপক হুসাইন কবির বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের কার্পেটগুলো সরাসরি তুর্কি থেকে আনা। এবারের মেলায় এখন পর্যন্ত ক্রেতাদের ভালো সাড়া পেয়েছি।

ছুটির দিন হওয়ায় গতকাল থেকে আমাদের বিক্রি বেড়েছে। আজও অনেক ক্রেতা আসছে। মেলা শেষের দিকে তাই ক্রেতা বেড়েছে নাকি বন্ধের দিনের জন্য ক্রেতা বেড়েছে এটা আগামী কয়েকদিন দেখলে বুঝা যাবে।

তিনি বলেন, আমাদের হাতে তৈরি থেকে শুরু করে মেশিনে তৈরি অনেক কোয়ালিটির কার্পেট আছে। এবার মেলায় সিল্কের কার্পেটের চাহিদা বেশি। আমাদের সিল্ক কার্পেটের স্টক এরই মধ্যে শেষের দিকে। আমাদের এখানে সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে দেড় লাখ টাকার কার্পেট আছে।

পণ্যের দাম নিয়ে বাণিজ্য মেলায় বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই ক্রেতাদের। তবে শুধুমাত্র মেলা কেন্দ্রিক গড়ে উঠা বেশির ভাগ ছোটোখাটো খাবারের দোকান এবং নন ব্রান্ডের স্টলে পণ্যের দাম মাত্রাতিরিক্ত রাখছেন এমন অভিযোগ বেশির ভাগ ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের।

ক্রেতাদের অভিযোগ, মেলার উত্তর দিকের পেছন গেটের পাশে ‘কার পার্কিং ক্যান্টিনে’ সব খাবারের পণ্যে গায়ের দাম থেকে ২-১০ টাকা পর্যন্ত বেশি রাখছেন ক্যান্টিনে দায়িত্বে থাকা কর্মীরা। দাম বেশি রাখায় পণ্য কেনার পর বিল দিতে গিয়ে অনেক ক্রেতা তাদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

দাম কেন বেশি রাখছেন জানতে চাইলে এই ক্যান্টিনের একজন বিক্রয় কর্মীর নাম প্রকাশ না করে বিরক্ত ভাব দেখিয়ে বলেন, মেলায় সব কিছুরই দাম বেশি। আমাদের এই ক্যান্টিন পার্কিং ইজারাদারের পক্ষ থেকে নেওয়া। মেলা কর্তৃপক্ষসহ সবাই জানে আমরা কত করে বিক্রি করি। এই জবাব আপনাকে দিতে হবে না। পরবর্তীতে এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের কাছে কয়েকজন লিখিত অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের সহকারী পরিচালক আসিফ আল আজাদ বলেন, মেলায় কেউ অতিরিক্ত দাম রাখবে তা মেনে নেওয়া যায় না।

কোনো দোকানে যদি প্রোডাক্টের দাম বেশি রাখে ভোক্তার কাছ থেকে তাহলে সেই দোকানির কাছ থেকে ভোক্তার অবশ্যই মানি রিসিট চাইতে হবে। ভোক্তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, কোনো দোকানে যদি রিসিট না দেয় তাহলে তার থেকে পণ্য কিনবেন না। মানি রিসিট চাওয়া একজন ভোক্তার অধিকার।

বাণিজ্য মেলা শুরু হয়েছে ২১ দিন হবে, এখন পর্যন্ত মেলার সার্বিক অবস্থা কি জানতে চাইলে বাণিজ্য মেলা পরিচালক ও রপ্তানি উন্নয়ন বুরো (ইপিবির সচিব) ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, বাণিজ্য মেলা শেষের দিকে চলে এসেছে। তাই দর্শনার্থী যেমন বাড়ছে একই সঙ্গে কেনাবেচা ও বাড়ছে। আমাদের আউট গেটগুলো দেখলে বুঝবেন কারো হাত খালি নেই। সবাই কিছু না কিছু কিনে নিয়ে যাচ্ছে।

বাণিজ্য মেলার সময় বাড়ানোর ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে বেশির ভাগ ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, আগারগাঁও যে পরিমাণ বিক্রি হতো সে তুলনায় পূর্বাচলে বিক্রি অনেকটাই কম।

মূলত শহর থেকে মেলা দূরে হওয়ায় ক্রেতা ও বিক্রি কম হচ্ছে বলে মনেকরেন এসব ব্যবসায়ীরা। বাণিজ্য মেলার সময় আরও কিছুটা বাড়লে ব্যবসায়ীদের জন্য ভালো হবে একই সঙ্গে লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবে এমনটাই আশা করছেন মেলা সংশ্লিষ্টরা।

মেলার সময় বাড়ানোর বিষয়ে বাণিজ্য মেলার পরিচালক ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, প্রতিবার মেলার শেষের দিকে মেলার সময় বাড়ানোর একটা পরিকল্পনা থাকে। কিন্তু এবার এখন পর্যন্ত এমন কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই। মেলার সময় বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত পেলে আমরা সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।

এবারের বাণিজ্য মেলায় কি পরিমাণ বেচাকেনা হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য মেলার পরিচালক বাংলানিউজকে বলেন, গতবার মেলায় ৭০ কোটি টাকার বেচাকেনা হয়েছিল। এবার আমরা আশা করছি ১৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন