জুস খেয়ে ঘুম, না ফেরার দেশে সুস্মিতা

‘অনিচ্ছা’ সত্ত্বেও দুই শিশু হকারের অনুনয় বিনয়ে একটি জুসের বোতল কেনেন সুস্মিতা। কিন্তু এই জুসই যে তার বিপদ ডেকে আনবে তা হয়তো কখনো ভাবেননি। জুস পান করার পরই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও জুসের বি’ষক্রিয়ার সঙ্গে লড়াই করে জিততে পারেননি। পাঁচ দিনের মতো চিকিৎসা নেওয়ার পর বুধবার সন্ধ্যায় না ফেরার দেশে চলে যান অনার্স ও মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়া মেধাবী এই ছাত্রী।

নিহত সুস্মিতার বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নে। তিনি মুমিনুন্নেছা কলেজ থেকে গণিতে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন। দুটোতেই প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন তিনি। সুস্মিতার পরিবার জানায়, এক সপ্তাহ আগে ঢাকায় যান সুস্মিতা। ঢাকায় যাওয়ার পথে ময়মনসিংহ ব্রিজের মোড় থেকে এক বোতল পানি কেনেন। ওই সময় দুই শিশু হকার জুস বিক্রির জন্য অনুনয় বিনয় করলে তিনি একটা জুসের বোতল কিনে নেন। পরে সেটি না খেয়ে ব্যাগে রেখে দেন।

চার দিন আগে ঢাকা থেকে রাতে বাড়ি ফিরে আসেন সুস্মিতা। রাত হওয়ায় ভাত না খেয়ে সেদিনের কেনা জুস খেয়ে ঘুমাতে যান তিনি। পরদিন সকাল ১০টা হলেও ঘুম থেকে জেগে না ওঠায় তার মা ডাকাডাকি করতে থাকেন। তারপরও না উঠলে চিৎ’কার দেন তার মা। পরে বাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশীরা ছুটি গিয়ে তাকে তোলার চেষ্টা করলেও উঠতে পারেনি ওই তরুণী।

ডাক্তার এনে বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে নেওয়া হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে তিন দিন চিকিৎসা দেওয়ার পরও অবস্থা ভালো না হওয়ায় গতকাল ডাক্তার তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন।

বুধবার বিকালে ঢাকা নিয়ে যাওয়ার পথে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে ত্রিশাল থেকে তাকে ফের নেওয়া হয় হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু তার আগেই না ফেরার দেশে চলে যান মেধাবী এই ছাত্রী। কোন জুস খেয়ে সুস্মিতার মৃত্যু হয়েছে তা জানা যায়নি। গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘ঘটনাটি প্রথম শুনলাম। এ বিষয়ে থানায় এখনো কেউ অভিযোগ করেনি।’

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত