নির্বাচন হবে ২০২৪ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ডিসে ৭, ২০২২ / ১০:০৩অপরাহ্ণ
নির্বাচন হবে ২০২৪ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’ আজ বুধবার কক্সবাজার শেখ কামাল স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা ২০১৮ সালে ভোট দিয়েছেন নৌকা মার্কায়। আমরা এই কক্সবাজারের উন্নয়ন করেছি। পরপর তিনবার ক্ষমতায় আসতে পেরেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ধারাবাহিকভাবে ২০০৯ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত গণতান্ত্রিক পদ্ধতি আছে বলেই, দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে গ্রেনেড যুদ্ধের মাঠে ব্যবহার করা হয় সেই গ্রেনেড মারা হয়েছিল আমাদের ওপর। গ্রেনেড হামলায় আমাদের আইভি রহমানসহ অনেকে মারা গেছেন। আল্লাহর রহমতে আমি সেদিন বেঁচে গিয়েছিলাম। ধ্বংস করা ছাড়া বিএনপি-জামায়াত এদেশকে কিছুই দিতে পারে না। ৭৫-এর পর এরা ২১ বছর ক্ষমতায় ছিল। কি দিয়েছে বাংলাদেশকে? তারা কিছুই দিতে পারেনি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জামায়াত-বিএনপি এদেশের মানুষকে কিছুই দিতে পারেনি। মানুষ খুন, মানিলন্ডারিং, বোমাবাজি এসব দিয়েছে তারা দেশকে। খালেদা জিয়া এতিমের টাকা মেরে দিয়েছে। তার কারাদণ্ড হয়েছে। তারেক রহমানেরও কারাদণ্ড হয়েছে। কাজেই তাদের কাছে দেশের মানুষ কিছুই আশা করে না।’

২০২৪ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন: কক্সবাজারের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী

দেশের মানুষের ভালোবাসা চেয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি বাবা, মা ও ভাই সবাইকে হারিয়েছি। নতুন করে হারানোর কিছু নেই। হারানোর কষ্ট আমার চেয়ে কেউ ভালো বুঝবে না।

আপনাদের কাছে বাবা, মায়ের স্নেহ, ভাইবোনের ভালোবাসা পাওয়ার আশা রাখি। আপনারা আমার পরিবার। আপনারাই আমাকে আগলে রেখেছেন। একমাত্র চাওয়া, যতক্ষণ ক্ষমতায় থাকবো দেশের মানুষের আহারের সংস্থান করা আমার কাজ। টিসিবির মাধ্যমে সস্তায় চাল-ডাল, তেল, চিনি পাওয়ার ব্যবস্থা করেছি। দেশের একজন মানুষও অভুক্ত থাকবে না।’

দেশের কোনও মানুষ গৃহহীন থাকবে না জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধশীল দেশে রূপান্তরের কাজ চলছে। ২০৪১ সালে আমরা সে লক্ষ্যে পৌঁছাবো, ইনশাল্লাহ। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় কোনও মানুষ ঠিকানাহীন ও গৃহহীন থাকবে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানবিক কারণে আমরা বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছিলাম। তাদের যত দ্রুত সম্ভব প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা চলমান রয়েছে। স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর এই কক্সবাজার তথা বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের প্রতি কেউ মুখ ফিরে তাকায়নি। দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে কক্সবাজারকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছিল।

২০০১ সালে আবারও বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থমকে দেয়। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় এলে কক্সবাজারে একে একে ১২টি মেগা প্রকল্পসহ ৭৩টি উন্নয়ন প্রকল্প এখন চলমান। ইতোমধ্যে ২৯টি প্রকল্প সমাপ্ত করতে পেরেছি। কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রেললাইন, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে জনগণ এর সুফল ভোগ করতে পারবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আমরা শান্তির র‌্যালি করেছিলাম। সেখানে গ্রেনেড হামলা করেছিল খালেদা জিয়ার চক্র। এতে আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ২২ নেতাকর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারা খালেদা জিয়ার কাজ।

পেট্রোল সন্ত্রাসে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছে তারা। জামায়াত-বিএনপি হত্যা, গুম, খুনসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। অস্ত্র চোরাকারবারের মামলায় অভিযুক্ত তারেক রহমান চক্র জঙ্গিবাদের মদতদাতা। তারা ধ্বংস ছাড়া কিছুই দিতে পারে না।’

কক্সবাজারের পর্যটনকে ঢেলে সাজানোর কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘টেকনাফের সাবরাংয়ে বিদেশিদের জন্য এক্সক্লুসিভ জোন করা হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে কক্সবাজারকে।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী জনসভায় উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনারা নৌকায় ভোট দেবেন? উপস্থিত জনতা হাত তুলে তখন তাকে প্রতিশ্রুতি দেন। তার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আবার আসিবো ফিরে এই কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের তীরে।’

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন