জন্ম-মৃত্যুর যে বিষয়গুলো মানুষ কখনো চিন্তা করে না!

মানুষ জন্ম-মৃত্যুর মাঝে যে বিষয়গুলো জানার চেষ্টা করবে কিংবা চিন্তা করবে তখনই তার জীবনাচারে পরিবর্তন আসবে। জীবনকে উপলব্দি করতে শেখবে। দুনিয়ার কাজ সঠিকভাবে পালন ও পরকালের প্রস্তুতি গ্রহণে সচেষ্ট হবে।

কেননা মৃত্যু এমন এক জিনিস, যা আসার পর কোনো মানুষ এক কদম সামনেও যেতে পারবে না আর না পারবে পেছনে যেতে। যেখানে মৃত্যু আসবে সেখানেই তা বাস্তবায়ন হবে।

মানুষের জন্ম-মৃত্যু নিয়ে ফেসবুকে ‘জন্ম মৃত্যুর আশ্চর্য মিল’ শিরোনামে একটি লেখা নজরকাড়ে। সাংবাদিকতার পেশাকে আঁকড়ে ধরার সংগ্রামে নিয়োজিত এক সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম সুমন তার ফেসবুক ওয়ালে এ লেখাটি তুলে ধরেন-

#জন্ম_মৃত্যুর_আশ্চর্য_মিল

যখন তুমি জন্ম গ্রহণ করো, তখন তোমার কানে আজান দেয়া হয়, কিন্তু সালাত (পড়া হয় না) নয়। আবার যখন তুমি মৃত্যুবরণ করো, তখন সালাত (জানাজা) আদায় হয়, আজান (হয় না) নয়।

যখন তুমি মাতৃগর্ভ থেকে বের হও, (তুমি) জাননা, কে তোমাকে বের করেছে? এমনিভাবে যখন তোমার মৃত্যু হয়, (তখনও) তুমি জাননা, কে তোমাকে কবরে রেখেছে?

যখন তুমি জন্মগ্রহণ কর, তোমাকে গোসল দেয়া হয়, পরিষ্কার করা হয়। অনুরুপভাবে যখন তুমি মৃত্যুবরণ করো, তখনও তোমাকে গোসল (দেয়া হয়) ও পরিচ্ছন্ন করা হয়।

যখন তুমি জন্মগ্রহণ কর, তোমার জন্মে কে খুশি হয়েছে, কে তোমাকে স্বাগত জানিয়েছে তখন (তুমি) জাননা। এমনিভাবে যখন তুমি মৃত্যুবরণ করো, তখনও (তুমি) জাননা, কে তোমার জন্য কেঁদেছে এবং কে তোমার বিদায়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে?

যখন তুমি মাতৃগর্ভে ছিলে, সে স্থানটি ছিল সংকীর্ণ ও অন্ধকার। আবার যখন তোমাকে কবরে রাখা হবে, সেটিও সংকীর্ণ ও অন্ধকার।

যখন তুমি জন্মগ্রহণ করেছ, তখন তোমাকে একটি কাপড় দিয়ে জড়িয়ে ধরা হয়েছে । আবার যখন মৃত্যুবরণ করবে, তখনও তোমাকে কাপড় দিয়ে জড়িয়ে ঢেকে রাখা হবে।

জন্মের পর বড় হলে (ভালো কিছু করলে) লোকেরা তোমার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে । তেমনিভাবে যখন তোমাকে কবরে রাখা হবে ফেরেশতারা তোমার (দুনিয়ার) আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে।

সুতরাং মানুষের উচিত জন্মের সময়ে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলোও মৃত্যুর সময় বা মৃত্যুর পর ঘটবে। আর সেসব বিষয়গুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবন পরিচালনা ও সুন্দর করা সবার জন্যই জরুরি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জন্ম-মৃত্যুর এ বিষয়গুলোকে বিবেচনা করে নিজের জীবন সুন্দর করার তাওফিক দান করুন। পরকালের সফলতায় দুনিয়াতে পুঁজি অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত