১২ বছরের কিশোরীকে বিয়ে দেওয়ার সব কৌশল ভেস্তে গেল

প্রকাশিত: অক্টো ৫, ২০২২ / ১১:৩৩অপরাহ্ণ
১২ বছরের কিশোরীকে বিয়ে দেওয়ার সব কৌশল ভেস্তে গেল

কিশোরীর বয়স মাত্র ১২, এখনো বিয়ের বয়স হয়নি। তবে ভালো পাত্র হাতছাড়া করতে চায়নি পরিবার। তাই তারা বিয়ে ঠিকঠাক করে আইনগত বাধার বিষয়টি মাথায় রেখে কৌশলের আশ্রয় নেয়। আনুষ্ঠানিক বিয়ের মাত্র তিন দিন আগে মেয়েকে কোর্ট ম্যারেজ করায়।

তারপর শুরু করে বিয়ের আয়োজন।
খবর পেয়ে বিয়েবাড়িতে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও নগরকান্দা থানার এক এসআই যান। তখন কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে তাদেরকে কোর্ট ম্যারেজের কাগজ দেখানো হয় এবং ওই কিশোরীর বাবা মুন্নু মাতুব্বর বলেন, ‘ছেলে-মেয়ে আগেই কোর্ট ম্যারেজ করে বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। ’ কিন্তু তাতে শেষ রক্ষা হয়নি। বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেন তারা।

আজ বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কাইচাল ইউনিয়নের বড় নাউডুবি গ্রামে।

জানা গেছে, আজ দুপুরে নাউডুবি গ্রামের মো. মুন্নু মাতুব্বরের বাড়িতে তার মেয়ে পুড়াদিয়া এস এ খান উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী বৃষ্টি আকতারের (১২) সাথে সালথার রামকান্তপুর গ্রামের ইউনুস মাতুব্বরের ছেলে মো. মেহেদী হাসানের (২২) বিয়ের আয়োজন করেছিলেন। বরযাত্রী খাওয়ানোর অনুষ্ঠান চলাকালে প্রশাসনের লোকজন ওই বাড়িতে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেন।

নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ইমাম রাজি বলেন, ‘১২ বছরের কিশোরীকে বিয়ে দেওয়ার খবর পেয়ে প্রশাসনের লোকজন ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে পাঠানো হয়। তারা ঘটনাস্থলে গেলে কিশোরীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ২ অক্টোবর ফরিদপুর আদালত নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে গিয়ে এফিডেভিটের (কোর্ট ম্যারেজ) মাধ্যমে বর-কনের বিবাহ সম্পন্ন হয়। এই সংক্রান্ত কিছু কাগজপত্রও দেখানো হয়। ’

তিনি আরো বলেন, ‘কোর্ট ম্যারেজের আইনগত কোনো ভিত্তি না থাকায় বিয়েটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই কিশোরীর বয়স ১৮ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেওয়া হবে না মর্মে কিশোরীর বাবার কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। ’

ইউএনও বলেন, ‘এত কম বয়সে ছেলে-মেয়ের কোর্ট ম্যারেজ হয় কিভাবে এটা আমার বুঝে আসছে না। কোর্ট ম্যারেজ বলতে কিছু আছে তা আমার জানা নেই। ’

ফরিদপুর জজকোর্টের আইনজীবী জায়নাল আবেদীন বলেন, ‘কোর্ট ম্যারেজ বিয়ের দশ পয়সার দামও নেই। আইনত এ জাতীয় বিয়ের কোনো নিয়ম নেই। এক শ্রেণির অসাধু আইনজীবী টাকার বিনিময়ে ভুয়া কোর্ট ম্যারেজ ও এফিডেভিট করে দেন। কোর্ট ম্যারেজে টাকার কোনো উল্লেখ থাকলেও তা ওঠানোর আইগত কোনো সুযোগ নেই। ’

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন