ঋণ পরিশোধে ষাটোর্ধ্ব পুরুষের হাতে তুলে দিত মা

প্রকাশিত: সেপ্টে ২৩, ২০২২ / ১০:৩৪অপরাহ্ণ

ঋণ পরিশোধে কিশোরী মেয়েকে জোরপূর্বক অনৈতিক কাজে বাধ্য করতেন মা। এমনটাই অভিযোগ করেছেন এক কিশোরী। শুধু তাই নয়, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে অবশেষে মায়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ওই কিশোরী। এমন ঘটনা ঘটেছে মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যের তামান জোহরজায়া এলাকায়।

ওই কিশোরীর নাম ঝান। বয়স মাত্র ১৭ বছর। তিনি জানান, তিনি ও তার মা জোহর রাজ্যের তামান জোহরজায়া এলাকায় বসবাস করতেন। তবে তার মা কোনো চাকরি করতেন না। ধার-কর্জ করে সংসার চালাতেন।

ঝান জানান, এভাবে একসময় ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়েন তার মা। আর সেই ঋণ পরিশোধে অর্থ যোগাড় করতে তাকে দিয়ে অনৈতিক কাজ করাতে বাধ্য করতেন। ঝান বলেন, তার মা তাকে ‘ঋণ পরিশোধের হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করতেন। এমনকি অর্থের জন্য তাকে ষাটোর্ধ্ব পুরুষের হাতে তুলে দিতেও দ্বিধা করতেন না।

মায়ের এসব নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একসময় বাড়ি ছেড়ে পালান ঝান। আশ্রয় নেন স্থানীয় একটি শিশু আশ্রয়কেন্দ্রে। তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করেন ওই এলাকার এক সমাজকর্মী।

কিন্তু এখানেও বাদ সাধেন ওই মা। মেয়েকে ফিরিয়ে নিতে ওই শিশু আশ্রয়কেন্দ্র ও ওই সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে মেয়ে ‘অপহরণ’-এর অভিযোগ করেন।

ওই মায়ের অভিযোগের জেরে সমাজকর্মী ও ঝানকে গত সপ্তাগে স্থানীয় থানায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে পুলিশের কাছে ঝান প্রমাণ করেন, তাকে কেউ অপহরণ করেনি। পাল্টা অভিযোগ করে গত মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে মায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ওই কিশোরী।

ঝান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি আর তার মায়ের কাছে ফিরে যেতে চান না। ওই শিশু আশ্রয়কেন্দ্রেই থাকতে চান। সেখানেই একটি নতুন ও স্বাভাবিক জীবন শুরু করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন