বিএনপি নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেবে না: মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত: সেপ্টে ১৫, ২০২২ / ১২:৫৪অপরাহ্ণ
বিএনপি নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেবে না: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এবারের সিদ্ধান্ত একবারেই অপরিবর্তনীয়, নির্বাচনের সময় একটি নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া আওয়ামীলীগের অধিনে বিএনপি কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না।

মির্জা ফখরুল আজ বৃহস্পতিবার সকালে তার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের কালিবাড়ির বাসভবনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এসময় জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সাধারন সম্পাদক মির্জা ফয়সাল আমিন, সহ সভাপতি আল মামুন, অর্থ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফসহ বিএনপি অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধিনে নির্বাচন হলে বিএনপি ও যুগপত আন্দোলনে অংশ নেওয়া অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে।

বাংলাদেশের জনগণের বেচেঁ থাকা এখন খুবই কষ্টকর হয়ে দাড়িয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সহ শিক্ষা, চিকিৎসাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধি করে মানুষের জীবনকে অতিষ্ট করে ফেলা হয়েছে। মানুষ এখন জীবন চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। এর প্রতিবাদে ২২ আগষ্ট থেকে বিএনপির সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসুচি এখনো চলেছে।

আওয়ামীলীগের বিভিন্ন সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল আরো বলেন, যেদিন থেকে তত্বাবধায়ক সরকার বাতিল ও সংবিধান পরিবর্তন করা হয়েছে তখন থেকে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গুলোকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।

তিনি বলেন, যখন একটি সরকার জনগণের সমর্থন হারায় কিন্তু তারা রাষ্ট্রিয় যন্ত্রগুলোবে ব্যাবহার করে ক্ষমতায় টিকে থাকে এবং নির্বাচন করে আবারো ক্ষমতায় যায় সেটি হলো হাইব্রিট রিজিম। এই হাইব্রিট রিজমের দ্বারা সরকার ক্ষমতায় টিকে রয়েছে।

বিএনপি পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন করে আসছে। দেশে এখন সুশাসন নেই , সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা নেই, তারা মেগাপ্রজেক্টের নামে যা খুশি তা করছে। বাংলাদেশ আজকে ব্যার্থ রাষ্ট্রে পরিনথ হয়েছে। ক্ষমতায় টিকে থাকতে আওয়ামীলীগ যা যা করা প্রয়োজন তাই করে যাচ্ছে , যেখানে জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করা হচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, মুক্ত গণতন্ত্র ও মুক্ত সাংবাদিকতা অনেক আগেই আওয়ামীলীগ ধ্বংস করেছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন আইন করে তারা সত্য কথা বলায় বাঁধা নিষেধ তৈরি করেছে। তাই কেউ সাহস করে সত্য কথা বলতে ও লিখতে পারেনা।

এখন পরিকল্পিতভাবে কিছু সুবিধাবাদি সুশিল সমাজ তৈরি করা হয়েছে যারা সরকারের সুযোগ সুবিধা ভোগ করে, ফলে তারা সরকারের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলেনা।

এক সময় ১৯৭১-এ পাকিস্তান ২২ পরিবার ছিল কোটিপতি আর এখন দেশ স্বাধীনের পর দেশে ১লক্ষ্য ৯২ হাজার কোটিপতি রয়েছে। যে দেশে ৪২ % এর নিচে মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বাস করে সে দেশকে উন্নত বা মধ্য আয়ের দেশ বলা যায় না। দেশে এখন কারো নিরাপত্তা নেই, পুলিশ, বিচার বিভাগ ও প্রশাসনকে দলীয়করণ করে এই সমাজকে ধ্বংস করে দিয়েছে আওয়ামীলীগ।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন