স্বামীর কবজি কেটে খালে ফেলে দিয়েছেন স্ত্রী, উদ্ধারের চেষ্টায় পুলিশ

প্রকাশিত: আগ ১৩, ২০২২ / ১০:৪২পূর্বাহ্ণ
স্বামীর কবজি কেটে খালে ফেলে দিয়েছেন স্ত্রী, উদ্ধারের চেষ্টায় পুলিশ

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে জাহারুল ইসলাম উজির (৪৫) নামের এক ব্যক্তির দুই হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার সুটিয়াকাঠি ইউনিয়নের বালিহারী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। জাহারুলের পরিবার ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, পারিবারিক কলহের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় পুলিশ জাহারুলের স্ত্রী মুর্শিদা বেগমকে আটক করেছে।

পেশায় দিনমজুর জাহারুল বালিহারী গ্রামের আ. মান্নানের ছেলে। জাহারুল-মুর্শিদা দম্পতির ৯ ও পাঁচ বছর বয়সের দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। স্বজনরা গতকাল শুক্রবার সকালে গুরুতর জখম জাহারুলকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ওই হাসপাতালে জাহারুলের সঙ্গে আছেন তাঁর ভাগ্নে নাসির। তিনি জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে জাহারুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁর শরীরে রক্ত দেওয়া হচ্ছে।

নাসির জানান, প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে সকালে তিনি মামার বাড়ি যান। পরে তাঁকে উদ্ধার করে স্বরূপকাঠি হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে মুর্শিদাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

দুপুরে স্বরূপকাঠি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন থাকাকালে জাহারুল জানান, ঘটনার রাতে ঘরের দরজা খুলে তাঁর স্ত্রী মুর্শিদা কয়েকজন লোককে ঘরে ঢোকান। ওই লোকদের সহযোগিতায় মুর্শিদা তাঁর দুই হাতের কবজি কর্তন করেন।

থানার পুলিশ সূত্র জানায়, জাহারুলের কবজি কেটে ফেলে খালে ফেলে দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী। কবজি দুটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। নেছারাবাদ থানার ওসি আবির মোহাম্মদ হোসেন গতকাল বলেন, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে মুর্শিদাকে পুলিশি হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন