গুলিস্তানে তৈরি ফোনে লেখা ‘মেইড ইন ফিনল্যান্ড’

প্রকাশিত: আগ ৯, ২০২২ / ১২:১১পূর্বাহ্ণ
গুলিস্তানে তৈরি ফোনে লেখা ‘মেইড ইন ফিনল্যান্ড’

বিভিন্ন দেশ থেকে মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করে সেগুলো দিয়ে রাজধানীর গুলিস্তানে বসেই তৈরি হচ্ছিল নকল মোবাইল ফোন। এসব মোবাইলে নিজেদের ইচ্ছা মতো ভুয়া ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি— আইএমইআই নম্বর দেওয়া হচ্ছিল।

আবার সেগুলোর গায়ে লেখা থাকে ‘মেইড ইন ফিনল্যান্ড’। নকল এসব ফোন দেশের বিভিন্ন এলাকায় খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকের হাতে চলে যায়। এসব ফোন ব্যবহারের সুযোগ নিচ্ছে অপরাধী চক্র।

রবিবার বিকাল থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এসব ফোন তৈরি সিন্ডিকেটের ‘মূলহোতা’ মোহাম্মদ স্বপনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

অভিযানে প্রায় ১৫০০টি মোবাইল ফোন সেট, তিন হাজার ৩৭০টি ফোনের নকল ব্যাটারি, ১২০টি হেডফোন, চার্জার ক্যাবল, নকল চার্জার, সেলার মেশিন, হিট গান, মোবাইল ফোন ডিসপ্লে, ইলেকট্রিক সেনসর, আইএমইআই কাটার মেশিন জব্দ করা হয়। এছাড়া বিপুল পরিমান ভুয়া ‘আইএমইআই’ স্টিকার ও ভুয়া বারকোড উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব বলছে, বিভিন্নভাবে মোবাইলের যন্ত্রাংশ এনে গুলিস্তানে স্বপনের কারখানায় নকল আইএমইআই দিয়ে মোবাইল ফোন তৈরি করা হতো। দেশের বিভিন্ন এলাকায় খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকের হাত চলে যেতো এসব ফোন। এই সুযোগ নেয় অপরাধীরা।

সোমবার বিকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ এসব তথ্য জানান।

কে এই স্বপন?

দুই বছর আগে জামালপুর থেকে কাজের সন্ধানে ঢাকায় আসেন স্বপন। পঞ্চম শ্রেণি পাস স্বপন রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অফিস সহকারীর কাজ নেন। তারই এক সহকর্মীর মোবাইলে সমস্যা দেখা দিলে স্বপন তার ঠিক করে দেন। পরে ওই সহকর্মী তাকে গুলিস্থানের একটি মোবাইল মেরামতের দোকানে কাজ করার সুযোগ করে দেন। কারণ ছোটবেলা থেকেই তার প্রযুক্তিগত জ্ঞান বেশ ভালো ছিল। বিভিন্ন সময় অনলাইনে ভিডিও দেখে জ্ঞান অর্জন করে এবং নিজেই মোবাইল ফোন তৈরি ও আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনের কাজ শুরু করে। দেশের বাইরে থেকে মোবাইলের যন্ত্রাংশ এনে মোবাইল তৈরি শুরু করেন। প্রতিদিন প্রায় ৫০টি মোবাইল তৈরি করতেন। তার কারখানায় আরও কয়েজকজন সহযোগী ছিলেন।

যেভাবে বিক্রি হতো:

স্বপনের কারখানায় তৈরি মোবাইল ফোন দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা কিনে নিতেন। তার কারখানায় তৈরি করা মোবাইল সিলার ও হিটার মেশিনের সহায়তায় মোবাইলের গায়ে ‘মেইড ইন চায়না’, ‘মেইড ইন ভিয়েতনাম’, ‘মেইড ইন ফিনল্যান্ড’ লেখা থাকত। তাছাড়া আসল মোবাইল ফোনের মতো প্যাকেটিং করে তা বাজারে ছেড়ে দিত। এসব ফোন বিটিআরসির ডাটাবেজে নিবন্ধিত না থাকায় বিক্রির পর গ্রাহকরা অভিযোগ করতেন। বারবার ফোন নষ্ট হওয়ায় গ্রাহকরা হয়রানির শিকার হতেন।

দিনে ২০০টির বেশি মোবাইল ফোন বিক্রি হতো বলে জানিয়েছে র‌্যাব। বাহিনীটি বলছে, স্বপনের কারখানায় সাধারণ আকারের মোবাইলের পাশাপাশি বিশেষ আকৃতির (২.৫ ইঞ্চি) মোবাইল তৈরি হতো। এসব ফোন দিয়ে কথা বলা ছাড়াও বিভিন্ন কাজ করা যেত। এসব ফোন অপরাধ চক্র অথবা রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে কি না তদন্ত করছে র‌্যাব।

র‌্যাব জানিয়েছে, স্বপনের কারখানায় তৈরি ১০ হাজার ফোন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি হয়েছে। এসব ফোন ৩০ লাখ টাকা আয় করেছেন, যা দিয়ে নিজ গ্রামে জমি কিনেছেন স্বপন।

সূত্র : ঢাকাটাইমস

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন