বিতর্কিত নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে মালয়েশিয়ায় তদন্তের মধ্যে যাচ্ছেন ৫৩ বাংলাদেশি কর্মী

প্রকাশিত: আগ ৮, ২০২২ / ০৯:৩০অপরাহ্ণ
বিতর্কিত নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে মালয়েশিয়ায় তদন্তের মধ্যে যাচ্ছেন ৫৩ বাংলাদেশি কর্মী

বিদেশি কর্মী নিতে বিতর্কিত নিয়োগ প্রক্রিয়া আর নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ‘ঘুষ লেনদেনের’ অভিযোগে মালয়েশিয়া অ্যান্টি করাপশান কমিশন—এমএসিসির তদন্ত চলার মধ্যে বাংলাদেশি ৫৩ কর্মী যাচ্ছেন দেশটিতে। এর মধ্য দিয়ে প্রায় চার বছর বন্ধ থাকার পর অন্যতম এই শ্রমবাজারে বাংলাদেশ কর্মী পাঠাতে শুরু করল।

এয়ার এশিয়ার একটি ফ্লাইটে সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ৫৩ জন কর্মী মালয়েশিয়া রওনা দেবেন বলে জানিয়েছেন জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক শহীদুল আলম।

বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে ২০১৬ সালে ঢাকায় মালয়েশিয়ার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হয়। দেশটির পাঁচটি খাতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ‘জিটুজি প্লাস’ পদ্ধতিতে বাংলাদেশ থেকে ১০টি জনশক্তি রপ্তানিকারক এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিতে সমঝোতাটি হয়েছিল।

কিন্তু প্রবাসী এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর নেতৃত্বে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগসাজশে এজেন্সিগুলোকে নিয়ে ‘সিন্ডিকেট’ করে শ্রমিকদের ২০০ কোটি রিঙ্গিত হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে বাংলাদেশি কর্মী নেয়া বন্ধ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটি।

এরপর কর্মী পাঠাতে বাংলাদেশ সরকারের তরফে নানা দেন-দরবার শুরু হয়। পাশাপাশি শ্রমিক সঙ্কটে থাকায় মালয়েশিয়া বাংলাদেশি কর্মী নিতে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেয়। এরপর মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই করে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী মালয়েশিয়া পাঁচ বছরে মোট ৫ লাখ কর্মী নেওয়ার কথা। এর মধ্যে চলতি বছরের জুনেই কর্মী যাওয়ার কথা ছিল দেশটিতে। ওই মাসের মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী এম সারাভানান ঢাকাও সফর করেন।

ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমস বা এফডব্লিউসিএমএসের মাধ্যমে মালয়েশিয়া বিদেশি কর্মী নিয়োগের অনুমোদন দেয়। মালয় সরকারের এই প্রতিষ্ঠানকে আইটি সেবা প্রদান করে বেস্টিনেট নামে একটি কোম্পানি। বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে বেস্টিনেটের অফিসে জুলাই মাসে কয়েক দফা অভিযান চালিয়েছে এমএসিসি।

সবশেষ ৩ আগস্ট বেস্টিনেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ আমিন আব্দুল নূর এমএসিসির হাতে গ্রেপ্তার হন বলে মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যমে খবর আসে। যদিও ঢাকা টাইমস তার গ্রেপ্তারের বিষয়ে যাচাই করতে পারেনি।

এদিকে আমিন নুর গ্রেপ্তার নাকি এমএসিসির নজরদারিতে তা নিয়ে খোদ কুয়ালালামপুরে নানামুখী আলোচনা হচ্ছে। অসমর্থিত একাধিক সূত্রে ঢাকা টাইমস জানতে পেরেছে, বেস্টিনেট সিইও আমিন আব্দুল নূর হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ বিষয়ে তার প্রতিষ্ঠান বেস্টিনেটের পক্ষ থেকে বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে মালয়েশিয়ার কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগে এই আমিনই এজেন্সি সিন্ডিকেটের মূলহোতা। কুয়ালালামপুর ও ঢাকায় সিন্ডিকেটটি তার নিয়ন্ত্রণেই কাজ করে। বাংলাদেশি হলেও কুয়ালালামপুরেও তার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। কুয়ালালামপুরের পাশাপাশি ঢাকার বনানীতেও অফিস আছে আমিনের প্রতিষ্ঠানের।

অভিযোগ উঠেছে, গত মে মাস থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত মোট ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৮৬১টি আবেদন প্রক্রিয়া করেছে বেস্টিনেট। আর প্রতি শ্রমিকের জন্য বাংলাদেশি টাকায় ১৭ হাজার থেকে ৩২ হাজার টাকা ‘ঘুষ’ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয়েছে।

মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম বলছে, এফডব্লিউসিএমএস একটি বিতর্কিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত ও দুর্নীতিতে অভিযুক্ত সিস্টেম। এই পদ্ধতির মাধ্যমে দুর্নীতি করে সিন্ডিকেটের সুযোগ করে দেওয়া হয়।

বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিবন্ধনের জন্য এই সিস্টেম দিয়েই কাজ করত বেস্টিনেট। আর ‘ঘুষ’ নিয়ে কোটা অর্জনে নিয়োগকর্তা বা এজেন্টদের সহযোগিতা করত। এই সিস্টেমের ‘অনুঘটক’ হিসেবে কাজ করে মাহাথির সরকার কর্তৃক কালো তালিকাভুক্ত এসপিপিএ ও বেস্টিনেট মালিক মোহাম্মদ আমিন।

অভিযোগ উঠেছে, এফডব্লিউসিএমএসকে ব্যবহার করে আমিন নূর বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। শূন্য খরচের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমিনের বেস্টিনেট কোম্পানির এফডব্লিউসিএমএস আর এসপিপিএর ফাঁদে পড়ে লাখ লাখ টাকা খুইয়ে বিদেশে পাড়ি দিতে হয় অসহায় শ্রমিকদের।

সূত্র : ঢাকাটাইমস

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন