মৃত্যুর আগে সব সম্পত্তি ওয়াকফ করে দেওয়া জায়েজ?

আমার বাবার এক বন্ধু বড় বিত্তশালী। ধর্ম-কর্ম পালনে খুব সচেষ্ট। দ্বীন-দরদি ও শিক্ষানুরাগী। তিনি বিয়ে-শাদি করেননি। বয়স ষাটের কাছাকাছি। তার বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। ভাইবোনও নেই। আত্মীয় বলতে আছে শুধু দুই চাচা, এক ফুফু, এক মামা ও এক খালা।

নিকটাত্মীয় কেউ না থাকায় তিনি অসিয়ত করেছেন, মৃত্যুর পর তার সব সম্পত্তি যেন তার গ্রামের মাদরাসার জন্য ওয়াকফ করে দেওয়া হয়।

জানার বিষয় হলো, তার অসিয়তটি কি শুদ্ধ হয়েছে? বিভিন্নজন বলছেন, এক তৃতীয়াংশের বেশি অসিয়ত করা জায়েজ নেই। বিষয়টি সঠিকভাবে জানানোর অনুরোধ রইল।

উত্তর: অসিয়তের ব্যাপারে শরীয়তের কিছু মূলনীতি আছে। তার একটি হলো অসিয়তকারীর যদি কোনো ওয়ারিস থাকে, তাহলে সে তার মালিকানাধীন এক তৃতীয়াংশ সম্পদের ক্ষেত্রেই কেবল অসিয়ত সীমিত রাখবে। এরচেয়ে বেশি অসিয়ত করবে না।

সাহাবি সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) বলেন, একবার আমি অসুস্থ হলাম তখন নবী (সা.) আমাকে দেখতে আসলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! …আমি অসিয়ত করে যেতে চাচ্ছি! আমার শুধু একটি মেয়ে আছে। সুতরাং আমি কি আমার অর্ধেক সম্পদের অসিয়ত করতে পারবো? আল্লাহর রাসুল বললেন, অর্ধেক তো অনেক! আমি তখন বললাম, তাহলে এক তৃতীয়াংশ? আল্লাহর রাসুল বললেন এক তৃতীয়াংশ হতে পারে, তবে এক তৃতীয়াংশও কম না! তিনি বলেন, এরপর মানুষ এক তৃতীয়াংশ অসিয়ত করতে লাগল, আর তা বৈধ হল। (বুখরি, হাদিস: ২৭৪৪)

উল্লেখ্য, ওয়ারিস বলতে শুধু মা-বাবা, ছেলে-মেয়ে স্ত্রী- এরাই নয়; বরং চাচা-ফুফু, মামা-খালারাও ক্ষেত্রবিশেষে ওয়ারিস হয়ে থাকেন। তাই এই প্রকারের কোনো ওয়ারিস জীবিত থাকাকালীন এক তৃতীয়াংশের বেশি অসিয়ত করলে, তার অনুমোদন ছাড়া সেটা কার্যকর হবে না।

সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর তার ওয়ারিস হিসেবে যারা জীবিত থাকবে, তাদের অনুমোদন ছাড়া তার সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশের অতিরিক্তের ক্ষেত্রে অসিয়ত কার্যকর হবে না।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত