শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার আসামি জিতু ৫ দিনের রিমান্ডে

প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২২ / ০৭:২১অপরাহ্ণ
শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার আসামি জিতু ৫ দিনের রিমান্ডে

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় কলেজশিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে পিটিয়ে হত্যার আসামি আশরাফুল ইসলাম জিতুকে ৫ দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব হাসান এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আজ জিতুকে আদালতে উপস্থিত করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক এমদাদুল হক। পরে শুনানি শেষে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বুধবার সন্ধ্যায় শ্রীপুরের নগরহাওলা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে জিতুর বাবা উজ্বল হোসেনকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। বুধবার ঢাকা মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত- ৩ এর বিচারক শেখ মুজাহিদুল ইসলাম তাকে রিমান্ডে পাঠান। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আশুলিয়া থানার এসআই এমদাদুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

উৎপল কুমার সরকার মারা যাওয়ার দিন গত রবিবার তার বড়ভাই অসীম কুমার সরকার অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম জিতুকে প্রধান করে হত্যা মামলা করেন। এজহারে অজ্ঞাতনামা অনেককেই আসামি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ওই মামলায় প্রধান আসামির বাবা উজ্জ্বল হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে জিতুর গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে আসেন র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, সাভারের আশুলিয়ার হাজী ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র আশরাফুল আহসান জিতু ওই প্রতিষ্ঠানের কলেজ পর্যায়ের একজন ছাত্রীর সঙ্গে ‘অযাচিতভাবে’ ঘোরাফেরা করে বেড়াত। বিষয়টি শিক্ষক উৎপল সরকারের চোখে পড়ে। তিনি জিতুকে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেন। এতে ওই ছাত্রীর কাছে নিজের হিরোইজম দেখাতে উৎপল সরকারকে মারধর করে স্কুলে ছাত্রদের কাছে ‘দাদা’ হিসেবে পরিচিত জিতু। এতেই ওই শিক্ষকের মৃত্যু হয়।

র‌্যাব আরও জানায়, জিতু স্কুলে সবার কাছে একজন উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সময় শৃঙ্খলাভঙ্গ, মারামারিসহ স্কুলের পরিবেশ নষ্টের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্কুলে যাওয়া-আসার পথে ও স্কুল চলাকালীন ছাত্রীদের ইভটিজিং করতো জিতু। স্কুলে সবার সামনে ধূমপান, ইউনিফর্ম ছাড়া স্কুলে আসা-যাওয়া, মোটরসাইকেল নিয়ে বেপরোয়াভাবে চলাফেরা করত।

নিহত শিক্ষক উৎপল সরকার হাজী ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতার পাশাপাশি শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম, ইভটিজিং, ধূমপানসহ শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত বিষয়গুলোও দেখভাল করতেন। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খেলাধুলা পরিচালনা করাসহ শিক্ষার্থীদের সুপরামর্শ, মোটিভেশন ও কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে সৃজনশীলতা বিকাশে ভূমিকা রাখতেন।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন