কাতার বিশ্বকাপ যে সব কারণে জিততে পারে ব্রাজিল

প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২২ / ০৮:০০অপরাহ্ণ
কাতার বিশ্বকাপ যে সব কারণে জিততে পারে ব্রাজিল

‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ ফিফা বিশ্বকাপে সব সময় হট ফেবারিটের তালিকায় থাকে ব্রাজিল। ৬.১ কেজি ওজনের সোনার ট্রফিটিও যে সবচেয়ে বেশি পাঁচবার ঘরে তুলেছে তারা। তবে আক্ষেপের বিষয় গত ২০ বছরে সেলেসাওরা ব্যর্থ বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রতিযোগিতাটির ফাইনালে পা রাখতে।

সবশেষ নিজেদের ঘরের মাটিতে ২০১৪ সালে আয়োজিত আসরে তারা খেলেছিল সেমিফাইনাল। তবে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কাতার বিশ্বকাপে এবার ট্রফি জেতার সম্ভাবনা বেশি লাতিন আমেরিকার দেশটির। কেন নেইমাররা দুই দশক পর ফের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় দাবিদার সে কারণ বিশ্লেষণ করা হবে এই প্রতিবেদনে।

অপ্রতিরোধ্য ব্রাজিল:

লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে অপরাজিত থেকে কাতার বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। ১৭ ম্যাচ খেলে তারা জয়ের দেখা পেয়েছে ১৪ ম্যাচে। বাকি তিন ম্যাচের ফলাফল ড্র। একই অঞ্চলের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার চেয়ে তাদের ম্যাচ জয়ের সংখ্যা বেশি ৩টি। তাছাড়া প্রতিপক্ষের জালে গোল জড়ানোতেও এগিয়ে যোজন যোজন এগিয়ে সেলেসাওরা।

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তারা সবশেষ ১৩ ম্যাচে অপরাজিত আছে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গত বছর কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারার আগেও তারা অপরাজিত ছিল ১৩ ম্যাচে। অর্থাৎ সবশেষ মাঝের এক ম্যাচ বাদ দিলে সবশেষ ২৬ ম্যাচেই অপরাজিত ছিল নেইমাররা। যার ফলে বেলজিয়ামকে হটিয়ে ফিফা র‌্যাংকিংয়ের চূড়া দখল করে নেয় ব্রাজিল।

সেরা আক্রমণ ভাগ:এবারের বিশ্বকাপে থাকা হট ফেবারিট দলগুলোর মধ্যে আক্রমণভাগে সবার চেয়ে এগিয়ে তিতের শিষ্যরা। করিম বেনজেমা-ভিনিসিয়ুস জুনিয়র কম্বিনেশন গত মৌসুমে নান্দনিক খেলা উপহার দিয়ে রিয়াল মাদ্রিদকে ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠ প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রফি জিতিয়েছিল। ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে ঠিক একই কম্বিনেশন যদি নেইমারের হয় তাহলে কাতার বিশ্বকাপ নিশ্চিত দখলে নেবে ব্রাজিলই। এদের সঙ্গে পাকুয়েতা, রদ্রিগেজ, ফিলিপ কৌতিনিও ব্রাজিলকে আক্রমণভাগে করে তুলবে অপ্রতিরোধ্য। যখন তখন মাঠের ফল পরিবর্তন করে তিতে ব্যবহার করতে পারেন রিচার্লিসন, গ্যাব্রিয়েল জেসুস ও রাফিনিয়াকে।

অভিজ্ঞ ডিফেন্স:কাতার বিশ্বকাপে ব্রাজিল পাচ্ছে অভিজ্ঞতার মিশেলে ভরা একঝাঁক ডিফেন্ডারকে। যাদের প্রতিহত করে তাদের রক্ষণদেয়ালে আঘাত হানা চীনের মহাপ্রাচীর ভেঙে আক্রমণে যাওয়ার সমতুল্য। ক্যাসেমিরো, দানি আলভেস, মার্সেলো, থিয়াগো সিলভা, মারকুইনসদের আলাদা করে ব্যাখ্যা করার কিছু নেই। তাদের হাত ধরে রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, পিএসজি ও চেলসির মতো ইউরোপ সেরা ক্লাবগুলো একের পর এক ট্রফি জিতে যাচ্ছে। তাদের সঙ্গে এদের মিলিতাও অ্যালেক্স সান্দ্রো ব্রাজিল দুর্গকে করে তুলবে আরো নিরাপদ।

বিশ্বসেরা গোলকিপার:যুক্তরাজ্যের ফুটবলবিষয়ক ম্যাগাজিন ফোরফোরটুয়ের গত মে মাসের প্রকাশিত ফিচারে বর্তমান বিশ্বের সেরা গোলকিপার হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন অ্যালিসন বেকার। বল থেকে তার দৃষ্টি ফেরে না মুহূর্তের জন্য। বাতাসে ভেসে বল রক্ষায় সিদ্ধহস্ত লিভারপুলের এই প্রাচীর গোলপোস্টে ব্রাজিলের ভরসার অন্যতম ভরসার প্রতীক। সেলেসাওদের আরেক প্রাচীর ম্যানচেস্টার সিটির এডারসন। গত মৌসুমে সিটির হয়ে তিনি তার রেকর্ড ২০টি ক্লিন শিটস আছে। তার যোগ্যতা প্রমাণে এর চেয়ে বেশি প্রমাণের প্রয়োজন নেই।

কাতার বিশ্বকাপে ব্রাজিলের মিশন হেক্সার রোডম্যাপ:বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপে আছে ব্রাজিল। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড, সার্বিয়া ও ক্যামেরুন। নেইমারদের বর্তমান পারফরম্যান্স বিচারে এটা সহজেই অনুমেয়, কোনো অঘটন না ঘটলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে যাচ্ছে ব্রাজিলই। কোনো অঘটন না ঘটলে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। সে বাধা টপকাতে পারলে তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে পেতে পারে জার্মানিকে।

কোয়ার্টার ফাইনালে নেইমাররা ২০১৪ বিশ্বকাপের প্রতিশোধ নিতে পারলে, সেমিফাইনালে সম্ভাবনা আছে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার। সুপার ক্লাসিকোর লড়াইয়ে সেলেসাওরা কোপা আমেরিকার প্রতিশোধ নিতে পারলে পৌঁছে যাবে ফাইনালে। যেখানে তাদের লড়তে হবে আরেক সেমিফাইনালে জয়ী দলের বিপক্ষে।

নেইমার আগেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন কাতার বিশ্বকাপ শেষে তিনি অবসর নেবেন জাতীয় দল থেকে। অবসর না নিলেও ব্রাজিলের হয়ে শেষ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন মার্সেলো, সিলভা, আলভেস সহ একাধিক তারকা ফুটবলার। কোচ তিতেও ছুটি দেবেন কাতার মিশন শেষে। ফলে শেষটা ভালোভাবে রাঙিয়ে ক্যারিয়ার শেষ করতে চাইবেন এই সেলেসাওরা। নেইমার তো বিশ্বকাপ জেতার বিষয়ে নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপের জন্য তিনি প্রয়োজনে জীবন দেবেন।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন