মাঙ্কিপক্স নিয়ে নিজেদের পরিস্থিতি জানাল সৌদি আরব

প্রকাশিত: মে ২৩, ২০২২ / ১২:৫৩পূর্বাহ্ণ
মাঙ্কিপক্স নিয়ে নিজেদের পরিস্থিতি জানাল সৌদি আরব

মহামারি করোনার মধ্যেই নতুন আতঙ্ক হয়ে সামনে এসেছে মাঙ্কিপক্স। বিরল এ রোগটি দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন দেশে। এর মধ্যে ইউরোপেই আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। গবেষকরা মাঙ্কিপক্সের প্রাদুর্ভাবকে মহামারি হিসেবে উল্লেখ করার পর এ নিয়ে নিজেদের পরিস্থিতি জানিয়েছে সৌদি আরব।

শুক্রবার (২০ মে) দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জনসাধারণকে নিশ্চিত করেছে যে সৌদি আরবে এখনো মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। আল-আরাবিয়ার বরাত দিয়ে শনিবার (২১ মে) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানায় সংবাদমাধ্যম সৌদি গেজেট।

সৌদি আরবের স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী ডা. আবদুল্লাহ আসিরি বলেন, মাঙ্কিপক্স শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা আমাদের আছে। আমরা যে কোনো সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারি। তিনি আরও বলেন, সৌদিতে সন্দেহভাজন রোগীর ‘মানসম্মত সংজ্ঞা’ আছে। সেভাবেই আমরা রোগী শনাক্ত, পর্যবেক্ষণ ও রোগনির্ণয় করি। নমুনা পরীক্ষার জন্য আমাদের ল্যাব আছে।

আবদুল্লাহ আসিরির মতে, মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণ অনেকটা সীমিত। কাজেই এই ভাইরাসটির সংক্রমণের কোনো শঙ্কা নেই। এমনকি যেসব দেশে মাঙ্কিপক্স পাওয়া গেছে, সেখানেও এর প্রাদুর্ভাব সীমিত।

এদিকে ইউরোপে মাঙ্কিপক্সের বিস্তারকে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় সংক্রমণ বলে বর্ণনা করেছেন জার্মানির একদল গবেষক। রোগটিকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

ইউরোপের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। রোগটি আফ্রিকার কিছু অংশেও উদ্বেগজনকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। গবেষকরা বলেছেন, সংক্রমিত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এলে মাঙ্কিপক্স ছড়াতে পারে। এ ধরণের রোগ কানাডা বা যুক্তরাষ্ট্রেও শনাক্ত হচ্ছে, যা বিরল ঘটনা।

মাঙ্কিপক্স একটি বিরল ভাইরাস সংক্রমণজনিত রোগ, যা পশু থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়। সাধারণত আফ্রিকার দেশগুলোতে এই রোগটি দেখা গেলেও ওই অঞ্চলের বাইরে রোগটি ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা বিরল। সে কারণেই দেশে দেশে মাঙ্কিপক্সের বিস্তার উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঙ্কিপক্স খুব একটা গুরুতর নয়। সংক্রমণের সক্ষমতাও তুলনামূলক কম। রোগটির প্রাথমিক লক্ষণ জ্বর, মাথা ব্যাথা, পেশীতে ব্যথা ও অবসাদ। পরে মুখ ও শরীরে চিকেনপক্সের মতো র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা যায়। তবে, এ রোগ নিজে থেকেই কেটে যায়। আক্রান্ত হওয়ার ১৪ থেকে ২১ দিনের মধ্যে সেরে ওঠেন রোগী।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন