এনআরসি থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে আসামে ১২ ঘন্টার বনধ

আসামের চূড়ান্ত এনআরসি তালিকা থেকে বাদ পড়ে ১৯ লাখ মানুষের নাম, চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পান ৩.১১ কোটি মানুষ তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ১২ ঘণ্টার বনধ পালিত হয়েছে। অল আসাম কোচ রাজবংশী সম্মিলনী এ বনধের ডাক দেয়। আসামের কোচ রাজবংশী সম্প্রদায়ের সকল সংগঠনের যৌথ প্ল্যাটফর্ম এটি। এনআরসির তালিকা থেকে আসামের বহু মানুষের নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদেই ওই ১২ ঘণ্টার বনধের ডাক ছিল তাদের। তবে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে এই বনধের প্রভাব কেবল পশ্চিম আসামের ৫-৬টি জেলাতেই পড়বে।সমস্ত রাজ্য জুড়ে এই বনধের কোনও প্রভাব পড়বে না বলেই আশা করা যায়। এখনও পর্যন্ত আসামের গুয়াহাটিতে এই বনধের কোনও প্রভাব সেভাবে চোখে পড়ছে না বলেই জানা গেছে। আসাম নাগরিকদের চূড়ান্ত জাতীয় নিবন্ধীকরণ (NRC) তালিকায় ওই ১৯ লাখ মানুষকে অবৈধ অভিবাসী হিসাবে চিহ্নিত করে বাদ দেওয়া হয়।

এদিকে এনআরসির বিরোধিতা, তালিকার বাইরের মানুষদের দায়িত্ব নিতে হবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে এমন দাবি তুলেছে তৃণমূল। কেন্দ্র অবশ্য বলেছে যে যাঁদের নাম চূড়ান্ত নাগরিক তালিকায় স্থান পাবে না সমস্ত আইনি বিকল্প শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এখনই বিদেশি ঘোষণা করা যাবে না। এনআরসির বাইরে থাকা প্রতিটি ব্যক্তি বিদেশি ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারেন এবং আবেদন করার সময়সীমা ৬০ থেকে বাড়িয়ে ১২০ দিন করা হয়েছে।

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যাদের নাম তালিকা থেকে বাদ গেছে তাদের পক্ষে যুক্তি শোনার জন্য পর্যায়ক্রমে কমপক্ষে এক হাজার ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে; এর মধ্যে ১০০টি ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যেই খুলে দেওয়া হয়েছে এবং আরও ২০০টি আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই স্থাপন করা হবে। ট্রাইব্যুনালে কেউ মামলা হারলেও তারা উচ্চ আদালত এবং তারপরে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করতে পারবেন। সকল আইনি বিকল্প শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকেই বিদেশি হিসাবে ঘোষণা করা হবে না বলে আশ্বস্ত করেছে মোদি সরকার। ইতিমধ্যেই আসামের নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষদের জন্যে সেখানে একটি ডিটেনশন সেন্টার তৈরি করা হচ্ছে।

১৯ লাখ মানুষ জাতীয় নাগরিকপঞ্জী তালিকার বাইরে চলে যাওয়ায় এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এআরসিকে “ব্যর্থ নাটকীয়তা” বলে মন্তব্য করেন, পাশাপাশি তার দাবি, অন্য কোনও অভিসন্ধি নিয়ে এই পদক্ষেপটি করেছে বিজেপি সরকার।

এদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার কথা ভেবে, বাংলাদেশি মুসলিমদের তাড়াতে এ রাজ্যেও চালু করা হবে এনআরসি। তিনি বলেন, নাগরিকত্ত্ব সংশোধনী বিলের মাধ্যমে হিন্দু শরণার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় বদ্ধপরিকর বিজেপি। তার অভিযোগ, সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে, সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে বাংলাদেশি মুসলিমদের অনুপ্রবেশে সহায়তা করছে তৃণমূল কংগ্রেস।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত