যেসব মানসিক সমস্যা হতে পারে করোনার পরে

প্রকাশিত: ফেব্রু ১২, ২০২২ / ০২:৩৮অপরাহ্ণ
যেসব মানসিক সমস্যা হতে পারে করোনার পরে

করোনা শারীরিক ও অর্থনৈতিক আমাদের যে ক্ষতি করেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে কভিড থেকে মানসিক সমস্যাও হতে পারে বলে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি তা বংশপরম্পরার মধ্যে দিয়ে চলতে পারে।

মহামারী চলাকালীন বিশ্বে অনেক মানুষ মানসিক সমর্থন খুঁজেছেন বলে বলছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা।

সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য।
নিউ ইয়র্কে কর্মরত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ভ্যালেন্টাইন রাইতেরি বলেন, করোনার নতুন ও পুরাতন উভয় রোগীর মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশার সমস্যা দেখা দেয়। তিনি বলেন, করোনাকালে আমার সহকর্মীরা যে পরিমাণ ব্যস্ত সময় পার করেছে এর আগে তেমন কখনো হয়নি।

করোনার পর মানসিক সমস্যা নিয়ে এর আগেও অনেক গবেষণা হয়েছে। গেলো অক্টোবরে ল্যানসেন্ট মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, করোনার কারণে ২০২০ সালে ২০৪টি দেশে হতাশা এবং উদ্বেগজনিত রোগ বেড়েছে। আশ্চর্যজনকভাবে ওই বছরে মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা নাটকীয়ভাবে নিচের দিকে নেমে এসেছে। গড়ে ৫৩ মিলিয়ন বিষণ্ণতাজনিত ব্যাধি এবং ৭৬ মিলিয়ন উদ্বেগজনিত ব্যাধিতে আক্রান্ত।

২০২০ সালের শুরুতে যখন মহামারী শুরু হয়েছিলো তখনও নিশ্চিত ছিল না যে তা কতদিন স্থায়ী হবে। রাইতেরি বলেন, ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রথম কয়েক মাসে আশ্চর্যজনক পরিমাণে স্থিতিস্থাপকতা ছিল। সময়ের সাথে সাথে প্রতিদিনের সামাজিক যোগাযোগের কমতে শুরু করে।

রাইতেরি আরো বলেন, দীর্ঘ সময়ের অনিশ্চয়তা এবং পরিবর্তনের ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের উপর একটি বিশাল প্রভাব পড়েছে যা মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে রাখে এবং কীভাবে ফের সংযোগ করা যায় তাও নিশ্চিত নয়। মানুষের মধ্যে থাকা এবং অপরিচিত বা হালকা পরিচিতদের সাথে থাকার অভ্যাস গড়ে তুলে তা নিশ্চিত করতে হবে বলে জানান রাইতেরি।

তিনি বলেন, শুরুর দিকে অনেকে এ সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। এতে করে অনিশ্চিত হতে শুরু করে যোগাযোগ। মহামারীর কারণে এ পরিবর্তনের ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের উপর বিশাল প্রভাব পড়ে যা মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে রাখে। তারা জানেনাও না কবে এক হতে পারবে।

লন্ডন-ভিত্তিক ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট এবং দ্য বোডার্ট প্রাকটিসের প্রধান নাটালি বোডার্ট বলেন, আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসাবে কাজ করে,যা আমাদের স্বাস্থ্যকর অভ্যাস অর্থাৎ ভালোকে গ্রহণ এবং ক্ষতিকর জিনিসগুলো বর্জন করতে সাহায্য করে।

ক্যাথরিন প্রিডি নামের আ রেকজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, পুরো জাতি করোনায় ভুক্তভোগী। এটা আমাদের জীবনের দু বছর কেড়ে নিয়েছে। এর প্রভাব অনেক বেশি। তিনি বলেন, এ সময়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা ও অনেক ব্যস্ত সময় পার করেছেন।

যুক্তরাজ্যের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট অ্যালেক্স ডেসাটনিক সিএনবিসিকে বলেছেন, অনেক তরুণের যে মানসিক ক্ষতি হয়েছে তা সমাধান করতে অন্তত একটি প্রজন্ম লেগে যাবে।

সূত্র: দ্যা টাইমস অব ইন্ডিয়া

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন