যে নগরে গাছও কথা বলে!

প্রকাশিত: জানু ২২, ২০২২ / ০৯:৩২অপরাহ্ণ
যে নগরে গাছও কথা বলে!

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ট্রান্সপোর্ট চত্বর থেকে পুরাতন রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ের সামনের রাস্তা। হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ থমকে দাঁড়ান পথচারীরা। অবাক হয়ে দেখেন রাস্তার পাশের ঘন জঙ্গলের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার! সহসা চমকে উঠলেও পরক্ষণেই টের পাওয়া যায় গাছের গায়ে এ এক চমৎকার রংতুলির আঁচড়ে আঁকা বাঘ।

শুধু বাঘই নয়, জাহাঙ্গীরনগরের গাছের গায়ে আছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আছে এক কাল্পনিক অপ্সরাও।

ব্যতিক্রমী আর দৃষ্টিনন্দন এসব চিত্রকর্ম দেখে এক মুহূর্তের জন্য হলেও থমকে দাঁড়াতে বাধ্য হন পথচারীরা। ভুল করেন না মনোমুগ্ধকর এসব চিত্রকর্মের সঙ্গে ছবি তুলে রাখতেও। গাছের গায়ে রংতুলির আঁচড়ে বিখ্যাতজন, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক রক্ষক ও কাল্পনিক পরীকে জীবন্ত করে তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ৪৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সোহাগ কুমার মিশ্র।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনসংলগ্ন সড়কের পাশে দুটি গাছকে রাঙিয়ে তুলেছেন সোহাগ মিশ্র। গাছ দুটির দিকে তাকাতেই মনে হবে, একটি থেকে বেরিয়ে আসছে জীবন্ত রয়েল বেঙ্গল টাইগার, অন্যটি থেকে উড়তে উড়তে বেরিয়ে আসছে কাল্পনিক অপ্সরা।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের পাশের গাছে আঁকা হয়েছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দৃষ্টিনন্দন চিত্রকর্ম। সর্বশেষ মীর মশাররফ হোসেন হলের সামনের একটি গাছে আঁকা হয়েছে সাদা পাঞ্জাবি-পায়জামার ওপর কালো কোট পরিহিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাহারি চিত্রকর্ম।

জানা যায়, ব্যক্তি উদ্যোগে ভিন্নধর্মী এমন কাজ শুরু করেছেন সোহাগ। নিজের পকেটের টাকা দিয়ে রং কিনে গাছগুলো রাঙাতে শুরু করেছেন সোহাগ। এরই মধ্যে ওই চারটি চিত্রকর্মের জন্য প্রশংসা কুড়াচ্ছেন তিনি। ফলে আগামীতে আরও কয়েকটি গাছের গায়ে মাদার তেরেসাসহ বিখ্যাতজনদের ছবি আঁকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।

ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগের বিষয়ে সোহাগ বলেন, সবুজ ক্যাম্পাস হিসেবে পরিচিত আমাদের জাহাঙ্গীরনগর। গাছগুলোতে ভিন্ন কিছু করতে পারলে সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। এমন ভাবনা থেকেই গাছগুলোতে ছবি আঁকা শুরু করি।

তিনি আরও বলেন, আমি পুরো ক্যাম্পাসটাকে গ্যালারি হিসেবে দেখি। যেখানে গাছগুলোই আমার ক্যানভাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছগুলোকে নতুনভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছি। চিত্রকর্ম দেখে সবাই প্রশংসা করছেন। এসব মুহূর্ত একজন চিত্রশিল্পীর জন্য সবচেয়ে আনন্দের।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন