ফারুকের চিকিৎসার জন্য বেচতে হল বহুমূল্যের দুটি ফ্ল্যাট

প্রকাশিত: জানু ১৪, ২০২২ / ০৫:৪৫অপরাহ্ণ
ফারুকের চিকিৎসার জন্য বেচতে হল বহুমূল্যের দুটি ফ্ল্যাট

দীর্ঘদিন ধরে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য এবং একসময়ের জনপ্রিয় নায়ক আকবর হোসেন পাঠান ফারুক। তার চিকিৎসার জন্য ঢাকায় থাকা দুটি ফ্ল্যাট বিক্রি করতে হয়েছে সম্প্রতি। যার বাজারমূল্য ১৫ কোটি টাকা। এছাড়া অভিনেতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টও নাকি শূন্য। চিকিৎসার খরচ চালাতে ধার-দেনাও করতে হয়েছে পরিবারকে।

গণমাধ্যমের কাছে এমন দাবি করেছেন ফারুকের একমাত্র ছেলে রওশন হোসেন পাঠান শরৎ। যিনি বর্তমানে বাংলাদেশেই রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আব্বু দীর্ঘদিন ধরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন। সেই খরচ চালাতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে বারিধারার দুটি ফ্ল্যাট বিক্রি করেছি। সেখানে আমরা থাকিনি। তার আগেই বিক্রি করে দিতে হলো।’

শরৎ জানান, ‘আব্বু হাসপাতালে বেশি দিন থাকলে আরও টাকা লাগতে পারে। স্বজনদের কাছ থেকেও দেনা করেছি। আব্বুর সুস্থতার জন্য শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করব। সরকারও সহযোগিতা করেছে। যদিও তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। তবে যেটুকু সহযোগিতা পেয়েছি, তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। বিপদের সময় তিনি আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।’

অভিনেতার ছেলে আরও জানান, ‘আব্বুর সঙ্গে মাঝে মাঝে যোগাযোগ হয়। তিনি আমাদের দুশ্চিন্তা করতে নিষেধ করেছেন। তার রোগমুক্তির জন্য শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে দোয়া চাচ্ছি।’

‘মিয়া ভাই’ খ্যাত অভিনেতা ও সাংসদ ফারুক গত বছরের মার্চ থেকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি। এর মধ্যে চার মাস তাকে রাখা হয়েছিল আইসিইউতে। সেখানে তার অবস্থা এতটাই খারাপ হয়েছিল যে, অভিনেতাকে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে রাখা হয়। সে সময় তার মৃত্যুর গুজব রটে গিয়েছিল। ছড়িয়ে পড়েছিল, ফারুক মারা গেছেন।

তবে বর্তমানে ফারুকের অবস্থা ভালো বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী ফারহানা পাঠান। তিনি বলেছেন, ‘ফারুকের শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। এখন নিজের পছন্দের সব ধরনের খাবার খেতে পারছেন। রক্তচাপ ও মস্তিস্কে যে সমস্যা ছিল, তাও নিয়ন্ত্রণে। তবে স্নায়ুতন্ত্রে নতুন কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। এর চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি। তাই ধৈর্য ধরে চিকিৎসা চালাতে হবে।’

গত বছরের মার্চে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সিঙ্গাপুরে যান ফারুক। সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসকের পরামর্শে দ্রুত তাকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। সেখানে পরীক্ষার পর তার মস্তিস্ক ও রক্তে সংক্রমণ ধরা পড়ে। মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি একদম অচেতন ছিলেন। সেই নাজুক অবস্থা কাটিয়ে বর্তমানে বেশ সুস্থতার পথে অভিনেতা।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন