ধর্ষণ করতে যেয়ে গৃহবধূর হাতে খুন প্রবাসী, অতঃপর

প্রকাশিত: ডিসে ৬, ২০২১ / ০৬:৩৫অপরাহ্ণ
ধর্ষণ করতে যেয়ে গৃহবধূর হাতে খুন প্রবাসী, অতঃপর

কিশোরগঞ্জে ঘরে ঢুকে জোরপূর্বক ধ’র্ষ’ণ চেষ্টাকালে ইতালি প্রবাসীকে হত্যার পর থানায় আত্মসমর্পণকারী গৃহবধূকে ব্যাংক কর্মকর্তা স্বামীসহ গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সময় অনুপস্থিত স্বামী ঘটনাস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

এ চাঞ্চল্যকর এবং বহুল আলোচিত ঘটনায় নিহত ইটালি প্রবাসী আমিনুল আলমের (৪৫) স্ত্রী সোমা আলম বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি হ’ত্যা মামলা করেন। মামলায় ওই গৃহবধূ এবং তার ব্যাংক কর্মকর্তা স্বামীসহ আরও অজ্ঞাত চারজনকে আ’সামি করা হয়।

মামলার পর পুলিশ আত্মসমর্পণকারী গৃহবধূকে গ্রে’ফ’তার দেখিয়ে রোববার বিকালে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। একই সঙ্গে তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন আছে মর্মে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। বুধবার রিমান্ড আবেদন শুনানির দিন ধার্য করে ওই দম্পতিকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত।

এদিকে মামলায় আর্থিক লেনদেন ও টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যসহ বেশ কয়েকটি কারণে আ’সা’মিরা এ হ’ত্যা’কাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

নিহত ইটালি প্রবাসী মো. আমিনুল আলম শহরের নীলগঞ্জ রোডের শোলাকিয়া সেবাশ্রম এলাকার মৃত আব্দুছ ছামাদের ছেলে। তিনি দুই মাস চারদিন আগে ছুটিতে ইতালি থেকে দেশে এসেছিলেন। ১২ ডিসেম্বর তার ইতালিতে ফিরে যাওয়ার কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে সেটি বাড়িয়ে ২ জানুয়ারি পুনর্নির্ধারণ করেছিলেন।

এদিকে ওই গৃহবধূ স্বামী ও দুই শিশু সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে শহরের নীলগঞ্জ রোডের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ১১টার দিকে ওই বাসাতেই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ইতালি প্রবাসী মো. আমিনুল আলম।

ঘটনার পরপরই রাত ১১টার দিকে গৃহবধূ কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় গিয়ে ডিউটি অফিসারকে ঘটনার বিবরণ দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

গৃহবধূ জানান, ইতালি প্রবাসী মো. আমিনুল আলমের বাসায় তারা ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। বাসার মালিক আমিনুল আলমের চরিত্র ভালো না থাকায় সে বাসা ছেড়ে প্রায় আড়াই বছর অন্য বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

আগের ভাড়া বাসার মালিক হিসেবে পরিচয়ের সূত্র ধরে আমিনুল আলম গৃহবধূকে বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে কু-প্রস্তাবসহ বিভিন্ন ধরনের খারাপ কথাবার্তা বলতেন। বিষয়টি আমিনুল আলমের স্ত্রীসহ আত্মীয়-স্বজন জানান। এতে আমিনুল আলম ক্ষিপ্ত ও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।

এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার বিকালে স্ত্রী-সন্তানদের ভাড়া বাসায় রেখে স্বামী গ্রামের বাড়ি যান। ওই দিন রাত পৌনে ১১টার দিকে আমিনুল আলম গৃহবধূর ভাড়া বাসায় গিয়ে তাকে জোরপূর্বক জড়িয়ে ধরে এবং ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

ওই গৃহবধূ নিজের সম্ভ্রম বাঁচাতে হাতের কাছে থাকা মসলা বাটার কাজে ব্যবহৃত পাথরের শিল দিয়ে আমিনুল আলমের মাথায় আঘাত করেন। এতে গুরুতর রক্তাক্ত জখমের ধকল সইতে না পেরে আমিনুল মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় তিনি আরও ভয় পেয়ে দ্রুত বাসার দরোজায় তালা ঝুলিয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় হাজির হয়ে পুলিশকে ঘটনা খুলে বলেন।

গৃহবধূর কাছে এ বর্বরোচিত নি’র্যা’তনের খবর শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসার তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে আমিনুল আলমকে মুমূর্ষু অবস্থায় অচেতন হয়ে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে।

তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পাঠায় পুলিশ। কিন্তু আমিনুলের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়ার পর সেখান থেকেও আমিনুল আলমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে শনিবার ভোরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন আমিনুল। শনিবার কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে রাতে তার লাশ দাফন করা হয়।

এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. আবুবকর সিদ্দিক এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ সময় তিনি আরও জানান, থানায় আত্মসমর্পণকারী গৃহবধূর অভিযোগ এবং নিহতের স্ত্রীর মামলা সব কিছু মাথায় রেখেই এ ঘটনার পটভূমি নিবিড়ভাবে তদন্ত করছে পুলিশ।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন