শালিকের দিন শুরু হয় নিজামের খাবার খেয়ে

প্রকাশিত: নভে ২৯, ২০২১ / ০৯:৪৪অপরাহ্ণ
শালিকের দিন শুরু হয় নিজামের খাবার খেয়ে

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় দিন দিন পাখিপ্রেমীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাখিদের খাবার দেয়ার পাশাপাশি নিরাপদ আশ্রয়স্থল (বাসা) তৈরির স্বেচ্ছায় কাজও করছেন অনেকে। যা প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও সৌন্দর্য রক্ষায় ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ধনীসাফা বুড়িরচর গ্রামের বাসিন্দা আজাদ আকন পাখিদের নিরাপদ বসবাসের জন্য গাছে-গাছে বাসা তৈরি করে দিচ্ছেন। সুযোগ পেলেই বিভিন্ন জনকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বজায় রাখতে পাখির বিকল্প নেই, এমনটাই বোঝাচ্ছেন।

উত্তর বড়মাছুয়া গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক জুলফিকার আমীন সোহেলও পাখিদের প্রতিদিন খাবার দেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সময় জন্য বাসা তৈরি করে দিচ্ছেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে পাখি শিকারিদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পাখী রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এদিকে উপজেলার মিরুখালী বাজারের পরোটা-সিংগারা-পুরি বিক্রেতা নিজাম জমাদ্দার হাতে খাবার খেয়ে শালিক পাখিদের দিন শুরু হয়। নিজাম ও শালিকের মধ্যে দীর্ঘ দিনের এই সখ্যতা এলাকায় বেশ সারা ফেলেছে। প্রতিদিন ভোর বেলা (সূর্য ওঠার আগে) দোকান খোলার আগেই তার নিজাম জমাদ্দারের দোকানের টিনের চালায় শতশত শলিক পাখি জড়ো হতে থাকে।

শালিকের কিচির মিচির শব্দে এলাকা মুখরিত হয়ে উঠে। নিজাম দোকান খুলে আগের দিনের রেখে দেয়া পরোটা ও পুরি টুকরা টুকরা করে দোকানের সামনে ছড়িয়ে দিলে ঝাঁকে ঝাঁকে শালিক রাস্তায় নেমে আসে। খাবার খেয়ে তারা আবার চলে যায়। ফজরের নামাজ পড়ে বের হওয়া মুসল্লিরা প্রতিদিন নিজাম ও শালিকের সখ্যতা উপভোগ করেন।

মিরুখালী ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মো. ইলিয়াচ জানান, নিজামের কাজটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ইসলামও আমাদের এই শিক্ষা দেয়।

শেরে-ই বাংলা পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক সাবেক প্রধান শিক্ষক নূর হোসাইন মোল্লা বলেন প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও সৌন্দর্য রক্ষায় পাখির কোনো বিকল্প নেই। ইতোমধ্যে অবৈধ শিকারিদের জন্য অনেক প্রজাতির পাখি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। পাখি রক্ষায় আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। পাখি রক্ষায় তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন