৭৪ বছর বয়সে জন্ম দিলেন যমজ সন্তান

শত চেষ্টা করেও সন্তান-ভাগ্য মিলছিল না এরামত্তি মনগম্মার। বৃদ্ধ বয়সেও মা হওয়ার স্বপ্ন যেন কিছুতেই কমেনি। যে বয়সে কি না আর সব মানুষ শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন, সে বয়সেই সন্তান জন্মের সিদ্ধান্ত নেন ৭৪ বছর বয়সী ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের গুন্তুরের বাসিন্দা এরামত্তি। আর পাশে ছিলেন তাঁর স্বামী রাজা রাও। শেষ পর্যন্ত এরামত্তি মা তো হলেনই, জন্ম দিলেন মজ কন্যাসন্তানের। আর সেইসঙ্গে ভেঙে দিলেন সবচেয়ে বেশি বয়সে মা হওয়ার রেকর্ডও। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের সহায়তা ছাড়া তা সম্ভব হতো না। এদিকে এরামত্তির মাতৃত্বের স্বপ্নপূরণ হওয়ায় খুশি পরিবারের সদস্যরাও।

রাজ্যের নেলাপারতিপাদুর ইস্ট গোদাবরি জেলার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে মা হন এরামত্তি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জি নিউজ এ খবর জানিয়েছে। এর আগে ২০১৭ সালে পাঞ্জাবের অমৃতসরে ৭২ বছর বয়সে মা হয়েছিলেন দলজিন্দর কউর। এখন পর্যন্ত তিনিই ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়সে মা হওয়া নারী। এবার সে রেকর্ডের দাবিদার ৭৪ বছরের এরামত্তি মনগম্মা।

১৯৬২ সালের ২২ মার্চ এরামত্তি ও রাজা রাওয়ের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর বহু চেষ্টা করেও সন্তান জন্মের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছিল না এ দম্পতির। অনেক চিকিৎসক দেখিয়েও মেলেনি সুরাহা। অবশেষে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের হাত ধরে হলো স্বপ্নপূরণ। কৃত্রিমভাবে ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) পদ্ধতিতে মা হন এরামত্তি।তবে বাড়ির পাশে আরেক নারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ না হলে এ স্বপ্ন পূরণ হতো না এরামত্তির। তাঁদের বাড়ির কাছেই থাকতেন এক নারী। যিনি ৫৫ বছর বয়সে আইভিএফ পদ্ধতিতে সন্তানের জন্ম দেন। এ থেকেই উদ্বুদ্ধ হন তিনি।

এরপর এরামত্তি ও তাঁর স্বামী রাজা রাও রাজ্যের অহল্যা নার্সিংহোমে যান। সেখানে আইভিএফ এক্সপার্ট ড. সনক্কায়ালা উমাশংকর রাজা রাওয়ের স্পার্ম সংগ্রহ করেন। তারপর আইভিএফে সফলভাবে নিষিক্ত হওয়া ডিম্বাণু এরামত্তির ডিম্বাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়।তবে বেশি বয়সে গর্ভধারণ সব সময়ই ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। এ ক্ষেত্রে এরামত্তির শারীরিক সুস্থতার বিষয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়ার পরই এগোন চিকিৎসকরা।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত