জয়েন্টে ব্যথা হলে কী খাবেন আর কী খাবেন না

প্রকাশিত: নভে ১৩, ২০২১ / ০৯:১৯অপরাহ্ণ
জয়েন্টে ব্যথা হলে কী খাবেন আর কী খাবেন না

আমাদের দেশের মানুষের খুব সাধারণ একটি অসুখ হলো জয়েন্টে ব্যথা। আর শীতকাল আসলেই এ সমস্যা বেড়ে যায়। আপনি জানেন কি আপনার খাবার তালিকার ওপর জয়েন্টে ব্যথার অনেক কিছু নির্ভর করে? এমন কিছু খাবার আছে যা ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে।

যাদের জয়েন্টে ব্যথা আছে বছরের অন্যান্য সময় ভালো থাকলেও শীতের এই সময়টা তাদের অনেক কষ্ট ভোগ করতে হয়। এক্ষেত্রে ব্যায়াম করা বা ম্যাসেজ করা উপকারী হতে পারে। তবে আপনি কি খাচ্ছেন তার ওপরেও সচেতন হতে হবে। জয়েন্টে পেইনের সমস্যা থাকলে এমন কিছু খাবার আছে যা অবশ্যই বাদ দিতে হবে। এমন অনেক খাবার আছে যার ফলে পেশীর প্রদাহ বাড়ে, টিস্যুর সংযোগ দুর্বল হয়ে যায়।

লবণ খাওয়া কমানো:

জয়েন্টে ব্যথা থাকলে আপনাকে অবশ্যই লবণ খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। আর্থারাইটিস ফাউন্ডেশনের মতে, কম লবণ খেলে শরীর থেকে ক্যালসিয়াম বের হয়ে যাওয়ার পরিমাণ কমে। আর এর ফলে অস্টিওপরোসিস ও ফ্র্যাকচারের ঝুঁকি কমে। লবণ খাওয়ার ফলে টিস্যুতে ফ্লুইড জমে ফুলে যেতে পারে যার ফলে জয়েন্টে ব্যথা হয়।

চিনি জাতীয় খাবার কম খাওয়া:

যারা জয়েন্ট পেইনের সমস্যায় ভুগে থাকেন তাদের খাদ্য তালিকা থেকে বেকারি আইটেম, কোমল পানীয়, মিষ্টি, বাজারের বোতলজাত জুস আর অন্যান্য যেসব খাবারে চিনি আছে তা বাদ দিতে হবে। সুগার লেভেল বেড়ে গেলে তা জয়েন্টের ব্যথাকে কয়েক গুণে বাড়িয়ে দেয়।

রেড মিট কম খাওয়া:

রেড মিট যেমন খাসি, ভেড়া আর যেসব মাংসে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিডের পরিমাণ বেশি থাকে সেগুলো বাদ দিতে হবে। কারণ এসবই জয়েন্টের ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে এবং সেই সাথে রিউমাটয়েড আথ্রাইটিসের লক্ষণগুলোকে আরো খারাপ করে তোলে।

গ্লুটেন:

গ্লুটেন হলো এমন একটি প্রোটিন যা শস্য যেমন গম, রাই এবং বার্লিতে পাওয়া যায়। অনেক মানুষ আছে যারা গ্লুটেন অ্যালার্জিতে ভোগে এবং অনেকেই জানেন না যে গ্লুটেন তাদের শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করে। এই ধরনের মানুষের তাদের জয়েন্টের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখতে গ্লুটেন জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।

জয়েন্টে ব্যথার জন্য উপযোগী খাবার:

বাদাম ও বীজ:

বাদাম এবং বীজ যেমন আখরোট, বাদাম, শণের বীজ এবং চিয়া সিডস ওমেগা -৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ভালো উৎস যা জয়েন্টে ব্যথা নিরাময় করে। এছা[ড়া হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য অসুস্থতার ঝুঁকি কমায় বাদাম ও বীজ।

ঠাণ্ডা পানির মাছ:

আপনি যদি মাছ পছন্দ করেন তবে শীতকাল আপনার জন্য উপযুক্ত সময়। শীতকালে টুনা, স্যামন,সার্ডিন মাছ খেতে পারেন যা ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ। তবে যারা গুরুতর জয়েন্টের ব্যথায় ভুগছেন তারা চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করুন।

আদা,রসুন এবং হলুদ একটু বেশি খাওয়া:

শীতকালে, আপনার খাবারে একটু অতিরিক্ত রসুন, পেঁয়াজ, আদা এবং হলুদ যোগ করুন। এই মসলাগুলোতে প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং আর্থ্রাইটিস এবং অন্যান্য জয়েন্টের ব্যথার চিকিৎসায় উপকারী।

সুগার ফ্রি ডার্ক চকলেট:

চকলেটের প্রধান উপাদান কোকোয়াতে প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং এতে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে। যে চকলেটে কোকোয়ার পরিমাণ যত বেশি তার প্রদাহ বিরোধী ভূমিকাও তত বেশি। কিন্তু সবচেয়ে ভালো ডার্ক চকলেটটাতেও সাধারণত চিনি ও চর্বি থাকে। এজন্য ডার্ক চকলেট খাওয়ার আগে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন।

সূত্র: হেলথ শটস

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন