জন্ম নিলো এক চোখের বাছুর!

প্রকাশিত: নভে ৯, ২০২১ / ১১:২২অপরাহ্ণ
জন্ম নিলো এক চোখের বাছুর!

নওগাঁর নিয়ামতপুরে সোমবার দুপুরে শোভা রানীর পালিত গাভীর এক চোখা একটি বাছুরের জন্ম হয়। বাচ্চা হওয়ার পরপরই এমন সংবাদে এলাকায় হৈ চৈ পড়ে যায়।

এক চোখের গরুর বাছুরটিকে এক নজর দেখতে শোভা রানীর বাড়িতে ভিড় করেন শত শত মানুষ। কিন্তু ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই বাচ্চাটির মৃত্যু হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের কুমরইল গ্রামের হিন্দুপাড়ায়। শোভা রানী কুমরইল গ্রামের মৃত নিশীরাজের স্ত্রী।

ওই গ্রামের আরিফ হোসেন বলেন, সত্যি এটা অবাক করার মতোই বিষয়। শোভা রানীর বাড়িতে গিয়ে গরুর বাচ্চাটিকে দেখে আমি খুব অবাক হয়েছি। এর আগে এ ধরনের ঘটনা এলাকায় কখনো ঘটেনি। বাচ্চাটি দেখতেও খুব সুন্দর ছিল।

একই গ্রামের মদন কুমার বলেন, বাছুরটি হওয়ার পরপরই আমাকে খবর দেয়। সেখানে গিয়ে দেখি বাচ্চাটির কপালের ওপর একটিমাত্র চোখ। নাক নেই, মুখ নেই। বাচ্চাটি মারা যাওয়ায় পরিবারটির মাঝে হতাশা কাজ করছে। কেননা এরা নিতান্তই হতদরিদ্র। গাভী লালনপালন করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল। স্বপ্ন দেখেছিল ছোট এক ছেলে ও সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া এক কন্যা সন্তানকে নিয়েও। শোভা মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান।

শোভা রানীর মেয়ে সোনালী বলেন, স্কুল থেকে ফিরে এসেই গরুর যত্ন নেই। ঘাস কেটে দিতে হয়, পানি খাওয়াতে হয়। এত কিছু করার পরও বাচ্চাটি মারা যাওয়ায় খুব খারাপ লাগছে।

শোভা রানী বলেন, স্বামী মারা যাবার পর থেকেই খুব কষ্ট করে ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছি। মানুষের বাড়ি ও ক্ষেতে কাজ করে গাভীটি কিনেছি। অনেক আশায় ছিলাম বাচ্চা হলে সেখান থেকে দুধ বিক্রি হলে কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে। কিন্তু কপালে না থাকলে আশা করে কি করব বাপু— বলেই কান্না শুরু করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আমি এটা নিয়ে দুঃখ করিনি। ভগবান যা করে ভালোর জন্যই করেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ইয়ামিন আলী বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। সাধারণত হরমোনের সমস্যার কারণে এ ধরনের বাচ্চা হতে পারে। তবে অনেক সময় গাভী গর্ভাবস্থায় ইউরিয়া জাতীয় কোনো কিছু খেয়ে থাকলেও এ ধরনের সমস্যা দেখা যায়।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন