চুল কাটার বর্ণনা দিলেন সেই ১৪ শিক্ষার্থী

প্রকাশিত: অক্টো ২৭, ২০২১ / ১০:৪৪অপরাহ্ণ
চুল কাটার বর্ণনা দিলেন সেই ১৪ শিক্ষার্থী

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) গঠিত ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটির ২ সদস্য ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক মো. জামিনুর রহমান ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক ইউসুফ হীরা বুধবার সকাল ১০টার দিকে রবির একাডেমিক ভবনে এসে তদন্ত কাজ শুরু করেন।

এ সময় তদন্ত কমিটির প্রধান বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য ড. দিল আফরোজ বেগম ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সোহরাব আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন তদন্ত শুরু হয়েছে। একদিনেই শেষ হবে কিনা তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র আবু জাফর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের এ তদন্ত দল ভুক্তভোগী ১৪ শিক্ষার্থী, অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন, প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী, আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী চার শিক্ষার্থী, প্রত্যক্ষদর্শী ৩ শিক্ষক ও ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

এছাড়া তদন্ত কমিটি বিভাগীয় চেয়ারম্যানসহ রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস হিমেলের নেতৃত্বে রবি গঠিত ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটির সঙ্গেও কথা বলেন।

আবু জাফর আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে আলাদা আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এছাড়া ৫৪টি প্রশ্নের উত্তর নির্ধারিত ফরমে লিখে নেন। এছাড়া মৌখিকভাবে চুল কেটে দেওয়ার বর্ণনা দেন ভুক্তভোগী ১৪ শিক্ষার্থী। একাডেমিক ভবনের চতুর্থতলায় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শ্রেণিকক্ষে এ সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথম সাক্ষ্য দেন আত্মহত্যার চেষ্টাকারী ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নাজমুল হোসেন। এরপর অপর দুই আত্মহত্যার চেষ্টাকারী শামীম হোসেন ও আবিদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। এরপর প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী ও আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ৪ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাক্ষ্য নেন।

এরপর বিকালে অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। তিনি রবি গঠিত তদন্ত কমিটির কাছে ৩ দফা সময় পেয়েও শেষ পর্যন্ত সাক্ষ্য দিতে না এলেও ইউজিসি গঠিত তদন্ত কমিটির কাছে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

এ বিষয়ে বুধবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে মোবাইল ফোনে তদন্ত কমিটির সদস্য ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক মো. জামিনুর রহমান বলেন, এখনো তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো কথা বলা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, ইউজিসির তদন্ত কমিটি আমাকে ডেকেছে। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে আমি এসেছি; যা বলার বলেছি। তারা আমার কথা গুরুত্বসহকারে শুনেছেন।

তিনি আরও বলেন, এ তদন্ত কমিটির ওপর আমার শতভাগ আস্থা আছে বলেই আমি এসেছি।

এ বিষয়ে জানতে রাত পৌনে ৮টার দিকে রবির দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিসি ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফ ও রেজিস্ট্রার সোহরাব আলীর মোবাইলে একাধিকবার কল করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন