প্রেম করে বিয়ের পর স্ত্রীকে অন্তঃসত্ত্বা করে পালাল স্বামী

প্রকাশিত: অক্টো ২৪, ২০২১ / ১০:৪৬অপরাহ্ণ
প্রেম করে বিয়ের পর স্ত্রীকে অন্তঃসত্ত্বা করে পালাল স্বামী

একই প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুবাধে পরিচয়। এরপর দু’জনার মধ্যে চেনাজানা ও প্রেমে জড়িয়ে পড়া। ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে হয় বিয়ে। বিয়ের পর ভাড়া বাসায় দীর্ঘদিন সংসার করে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে ঢাকায় ফেলে রেখে গা-ঢাকা দিয়ে বাড়িতে এসে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় সাজু মিয়া নামে এক যুবক।

সাজু মিয়া চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের দফাদারপাড়া এলাকার আমির উদ্দীনের ছেলে। নিরুপায় হয়ে গর্ভের সন্তানের পিতৃপরিচয়ের দাবি নিয়ে সাজুর বাড়ির উদ্দেশে এসে কোথাও স্থান পাচ্ছেন না ওই গর্ভবতী নারী।

জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলাধীন রানীগঞ্জ ইউনিয়নের দফাদারপাড়া এলাকার আমির উদ্দিনের ছেলে সাজু মিয়ার সঙ্গে ঢাকায় এক প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুবাদে পরিচয় হয় সাভার এলাকার ওই নারীর।

পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেম, অতঃপর ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর সাজু মিয়ার সঙ্গে মুসলিম রীতি মোতাবেক বিবাহ নিবন্ধন হয় প্রায় ৬ বছর আগে। বিয়ের পর থেকে তারা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে ঘর-সংসার করতে থাকেন।

কিন্তু হঠাৎ মাস তিনেক আগে সাজু মিয়া তাকে গাজীপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় রেখে গ্রামের বাড়ি চিলমারীতে চলে এসে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। অবশেষে কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে ওই গৃহবধূ স্বামীর ছবি, বিবাহ রেজিস্ট্রির কাগজ ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে শুক্রবার স্বামী সাজু মিয়ার বাড়িতে চলে আসেন।

সেখানে আসলে বাড়ির লোকজন তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে বের করে দেন বলে জানা যায়। শনিবার রাতে স্থানীয় সাংবাদিকের সহায়তায় ওই গৃহবধূ চিলমারী হাসপাতালে ভর্তি হন।

গর্ভের সন্তানের পিতৃপরিচয়ের দাবি নিয়ে আসা গর্ভবর্তী নারী বলেন, একই অফিসে চাকরির সূত্রে প্রায় এক-দেড় বছর প্রেমের পর সাজু আমাকে বিয়ে করে ২০১৬ সালে। তখন থেকে বিভিন্ন জায়গায় বাসা ভাড়া নিয়ে ঘর-সংসার করে আসছিলাম।

প্রায় ৭ মাস আগে আমার গর্ভধারণ হয়। হঠাৎ গত তিন মাস আগে সাজু মিয়া আমাকে কিছু না বলে ভাড়া বাসায় রেখে চিলমারী চলে আসে এবং যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। নিরুপায় হয়ে আমি খোঁজ নিতে নিতে আমার গর্ভের সন্তানের পিতার পরিচয়ের দাবি নিয়ে চিলমারীতে আসি।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারকেও জানিয়েছি কিন্তু কোনো সুরাহা পাইনি। আমি অসুস্থ মানুষ, এখন কোথায় যাব? ধর্ম ত্যাগ করায় বাবা-মায়ের কাছেও আমার স্থান নেই, স্বামীর বাড়িতেও স্থান পাচ্ছি না।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সাজু মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার দেখা পাওয়া যায়নি এবং তার মোবাইলও বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মোনায়েম সরদার বলেন, শুনেছি ঢাকা থেকে মেয়েটি স্বামীর বাড়ির উদ্দেশে এসেছে; তবে আমার সঙ্গে দেখা হয়নি।

বিষয়টি জানতে রানীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মনজুরুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

চিলমারী মডেল থানার ওসি মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি যেহেতু পারিবারিক, তাই আদালতে গেলেই ভালো হবে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন