শিশুকে বউ বউ খেলার কথা বলে ধর্ষণ ও হত্যা

প্রকাশিত: অক্টো ২৪, ২০২১ / ০৬:৪১অপরাহ্ণ
শিশুকে বউ বউ খেলার কথা বলে ধর্ষণ ও হত্যা

নাটোরের লালপুর উপজেলার চংধুপইল ইউনিয়নের আব্দুলপুর মধ্যপাড়ায় শিশুদের বনভোজনে বউ বউ খেলা থেকেই ঘটে সাত বছরের শিশু নুসরাত জাহান বাবলী ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড।

ধর্ষণের সময় ব্যথায় শিশুটি কান্না শুরু করলে তার মুখ চেপে ধরে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ইলিয়াস হাসান ইমন। তারপরও কান্নাকাটি করলে হাঁসুয়ার পেছন দিক দিয়ে ঘাড়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

মৃত্যু নিশ্চিতের পর মৃতদেহ বস্তায় ভরে পাশের টয়লেটের ট্যাংকিতে ভরে রাখে। পুলিশ বাবলীর খোঁজ শুরু করলে ইমনের বাবা ফাইজুল ইসলামের নিজের ছেলে ইমনকে সন্দেহ হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদ করে নিশ্চিত হয় তার ছেলে ইমনই বাবলীকে মেরে ফেলেছে।

নিজের ছেলেকে বাঁচাতে পরে বাবা-ছেলে মিলে টয়লেটের ট্যাংকি থেকে লাশের বস্তা তুলে ৫০০ মিটার দূরে জিয়া মেম্বারের আমবাগানের পাশের ধানক্ষেতে ফেলে রেখে আসে।

রোববার নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা।

এর আগে শনিবার রাতে কিশোর ইমন ও তার বাবা ফাইজুল ইসলামকে গ্রেফতার করে লালপুর থানা পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হাঁসুয়াটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাবলী ওই গ্রামের বাবু হোসেনের মেয়ে।

পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, গত ১৯ অক্টোবর নিহত বাবলী হত্যাকারী ইমনসহ বেশ কয়েকজন শিশু পিকনিকের জন্য প্রতিবেশী আরশেদ আলীর বাড়িতে যায়। রান্না শেষে গোসলের জন্য সবাই বাড়ি গেলে ইমনও তার বাড়িতে চলে যায়। ইমন তার বাড়িতে একাকী থাকা অবস্থায় শিশু বাবলী তার বাড়িতে যায়। এ সময় বাবলীকে একা পেয়ে বউ বউ খেলার কথা বলে ধর্ষণ করে ইমন।

বাবলী কান্নাকাটি করলে ইমন তার গলা চেপে থামানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে বাবলী নিস্তেজ হয়ে পড়লে ধারালো হাঁসুয়ার উল্টোদিক দিয়ে ঘাড়ে আঘাত করলে বাবলীর মৃত্যু হয়। হত্যার দিন দুপুরে আরশেদ আলীর বাড়িতে বাবলীকে খুঁজে না পেয়ে তার বাবা বাবু হোসেন আত্মীয়স্বজনদের জানানোর পাশাপাশি আব্দুলপুর এলাকায় মাইকিং ও রেলস্টেশনে পোস্টারিং করেন।

নিখোঁজের চতুর্থ দিনে শিশুটির বাবা জানতে পারেন তার বাড়ির ৭০০ মিটার দূরে একটি জমিতে বস্তাবন্দি অবস্থায় একটি লাশ পড়ে আছে। এ সময় তারা সেখানে গিয়ে বাবলীর অর্ধগলিত লাশ শনাক্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক জোবায়ের, লালপুর থানার ওসি ফজলুর রহমান, গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ জালাল উদ্দীনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন