টেকনাফ স্থলবন্দর সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি

প্রকাশিত: অক্টো ১৬, ২০২১ / ১১:৪০অপরাহ্ণ
টেকনাফ স্থলবন্দর সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি

পরিবহণ ও শ্রমিক সিন্ডিকেটের হাতে কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বন্দর পরিদর্শনে আসা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। তিনি জানান, টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে আসা আমদানি পণ্য দেশের বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছাতে অতিরিক্ত ট্রাকভাড়া এবং শ্রমিকদের সিন্ডিকেটের কারণে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান আজ শনিবার দুপুরে টেকনাফ স্থলবন্দরে পেঁয়াজ আমদানিকারক, বন্দরের কর্মকর্তা কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি এসব সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন।

এ ছাড়া পচনশীল এই পণ্য বন্দর থেকে দ্রুত খালাস হয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌছানোর ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধের আশ্বাস দেন অতিরিক্ত সচিব। তিনি জানান, একজন ব্যক্তির হাতে টেকনাফ স্থলবন্দরে শ্রমিকদের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে।

তাও পাঁচ-ছয় বছর এই ব্যক্তিই শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণ ও শ্রমিকদের মজুরির ব্যবসা করছে। এখন এটা ওপেন টেন্ডার হওয়া দরকার। এ ছাড়া টেকনাফ স্থলবন্দর থেকে ঢাকা পর্যন্ত পণ্যবোঝাই একটি ট্রাকের ভাড়া ৪০ হাজার টাকারও বেশি নেওয়া হচ্ছে। এটি কোনো মতেই কাম্য নয়। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের ঘাটে ঘাটে নানা চাঁদা দিতে হয় বিভিন্ন সিন্ডিকেটকে। যে কারণে পেঁয়াজসহ আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে।

এর আগে অতিরিক্ত সচিব বন্দর এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ব্যবসায়ী, শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেন।

বাণিজ্য প্রসারের ক্ষেত্রে বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করার জরুরি বলে দাবি জানান ব্যবসায়ীরা। অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে আনা পণ্য খালাসের পর স্ক্যানিং সুবিধা না থাকায় মাদকসহ অন্যান্য চোরাচালান বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকতে পারে, সে লক্ষ্যে দ্রুত একটি স্ক্যানার বসানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

বৈঠকে অতিরিক্ত সচিব ছাড়াও টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বিজিবি প্রতিনিধি, বন্দরের ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে জানানো হয়, ১৫ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত গত দুই সপ্তাহে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমার থেকে ৮ হাজার ১০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এসব পেঁয়াজ ১০ থেকে ১২ জন ব্যবসায়ী আমদানি করেছেন। এর আগে মিয়ানমার থেকে সেপ্টেম্বর মাসে দুই হাজার ৯৮৮ মেট্রিক টন ও আগস্ট মাসে ৭৬৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন