তার নেশাই ছিলো ছোট শিশুদের ধর্ষণ করা

প্রকাশিত: অক্টো ১২, ২০২১ / ১১:০২অপরাহ্ণ
তার নেশাই ছিলো ছোট শিশুদের ধর্ষণ করা

ছোট ছোট শিশুদের ধর্ষণের টার্গেট ছিল সিরিয়াল রেপিস্ট নাঈমের। নাঈমের নেশাই ছিল ছোট্ট শিশুদের ধর্ষণ করা। ধর্ষণের পর আবার শিশুকে হত্যাও করেছে নাঈম। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মঙ্গলবার এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে নাঈম।

বরগুনা সদর উপজেলার আয়লাপাতাকাটা ইউনিয়নের তুলাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯ অক্টোবর বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ চেষ্টার সময় জনতার হাতে ধরা পড়ে নাঈম। পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

এই বখাটে নাঈম বরগুনা সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া এলাকার জব্বার মাঝির ছেলে। এলাকায় নাঈম চিহ্নিত অপরাধী বলেও পুলিশ জানিয়েছে।

নাঈমের টার্গেট ছিল ছোট ছোট শিশুরা। দেশের অনেক জেলায় অসহায়ত্বের কথা বলে ভবঘুরে হয়ে আশ্রয় নিয়ে চুরি ও ধর্ষণ করে বেড়াতো সে। নাঈমের এমন কর্মকাণ্ডের জন্য চার বছর আগে তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন তার স্বজনরা।

নারায়ণগঞ্জ ও বরগুনা পুলিশের পৃথক জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে বেরিয়ে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য।

৯ অক্টোবর বিকালে ৯ বছরের এক শিশুকে পথ দেখিয়ে দেওয়ার কথা বলে মুখ চেপে তুলাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টয়লেটে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় নাঈম। ওই শিশুর চিৎকারে এলাকার লোকজন ছুটে এসে শিশুকে উদ্ধার করে থানা পুলিশে খবর দেন।

নাঈমকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসেন বরগুনা সদর থানায়। জিজ্ঞাসাবাদে নাঈম নারায়ণগঞ্জে ২৩ সেপ্টেম্বর এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে বর্ণনা দেয়।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাঈম জানিয়েছে, বিভিন্ন জেলায় ভবঘুরে সেজে নিজের অসহায়ত্বের কথা বলে বিভিন্ন পরিবারে প্রথমে আশ্রয় নিত সে। অনেক স্থানে কাজের লোক হিসেবে থাকত।

এরপর আশপাশে থাকা শিশুদের কখনো আইসক্রিম আবার কখনো চকলেট খাওয়ানোর কথা বলে নিজের আশ্রয়স্থল অথবা নির্জন কোথাও নিয়ে ধর্ষণ করত। মূলত নাঈম ধর্ষণের জন্য টার্গেট করত ছোট ছোট শিশুদের।

তিনি আরও জানান, দুই-এক দিনের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জের আদালতে নাঈমকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করবে পুলিশ।

অভিযুক্ত নাঈমের বড়ভাই রুবেল মাঝি বলেন, তার ভাইয়ের বিভিন্ন অপরাধের কারণে কয়েক বছর আগেই পরিবার থেকে ছিন্ন করা হয় তাকে।

প্রতিবেশী দুলাল গাজী বলেন, এলাকায় ইভটিজিং, চুরি, মোবাইল চুরিসহ নানা অপরাধে হাতেনাতে ধরা পড়েছিল নাঈম।

এলাকার আউয়াল মিয়া নামে মাদ্রাসার এক কর্মচারী বলেন, মেয়েদের দিকেই নেশা ছিল নাঈমের। তার সর্বোচ্চ শাস্তি হলে এলাকার মেয়েরা শান্তিতে থাকতে পারবে।

এ বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর মল্লিক বলেন, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া নাঈম একজন সিরিয়াল রেপিস্ট বলে প্রমাণ পেয়েছে বরগুনা পুলিশ। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকারও তথ্য দিয়েছে নাঈম।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন