জ্বীন যেসব রুপ ধারণ করতে পারে

মহান আল্লাহ তা’আলা পৃথিবীতে শুধু মানব জাতিকেই সৃষ্টি করেননি, মানব জাতির সঙ্গে সঙ্গে সৃষ্টি করেছেন জ্বীন জাতিকেও। ইসলাম ধর্মের মহাপবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল-কোরআনে জ্বীন জাতি সম্পর্কে একাধিকবার উল্লেখ করা হয়েছে, এমনকি এ নিয়ে একটি সম্পূর্ণ সূরাও নাযিল হয়েছে।

ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী জ্বীন আগুনের তৈরি। তাদের বেশ কিছু বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে যা আল্লাহ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠজীব মানুষকেও দেননি।

জ্বীনরা মানুষদের দেখতে পায়, তবে মানুষ জ্বীনদের দেখতে পায়না যতক্ষণ না তারা নিজে থেকে দেখা দেয়। তারা মানুষের মতোই জীবন-যাপণ করে। তাদেরও সংসার ও সন্তান রয়েছে।

জ্বীনদের বিভিন্ন ধরণ রয়েছে। এই ধরণ অনুযায়ী তারা বিভিন্ন রকমের কাজ ও রুপ ধারণ পারে। নিম্নে ইসলাম ধর্মে উল্লেখিত ১০ ধরনের জ্বীনের বর্ণনা দেয়া হলোঃ

১. হিন
হিন হচ্ছে এমন এক প্রজাতির জ্বীন যারা দেখতে অনেকটা পশুর মতো হয়ে থাকে। এরা সাধারণত কুকুরের বেশে চলাফেরা করে। মুসলিম দার্শনিক জাকারিয়া ইবনে মুহাম্মাদ আল-কাজওয়ানি তার ‘দ্য বুক অব জ্বীন’ –এ দাবি করেছেন যে, তিনি সৌদি আরব, পারস্য ও ভারতে অনেকবার হিন দেখেছেন।

২. গৌল
গৌল হচ্ছে বিশেষ প্রজাতির এক জ্বীন। এরা নিজেদের রুপ পরিবর্তন করতে পারা ছাড়াও মানুষের মাংস ভোক্ষণ ও রক্ত পান করে থাকে। এরা মূলত ভ্রমণকারী ও শিশুদেরকে তাদের লক্ষ্যবস্তু করে থাকে। এছাড়া এরা কবর থেকেও মানুষের লাশ চুরি করে।

বিভিন্ন বই-পুস্তকে বলা হয়েছে, গৌলরা হলো জ্বীন জাতির মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক প্রজাতির। এদের মধ্যে নারী গৌলরা মানুষের রুপ ধারণ করতে পারে। তারা সাধারন নারীর রুপ ধারণ করে পুরুষদের শিকার করে থাকে।

ফারসি বিভিন্ন বইয়ে বলা হয়েছে যে, গৌলদের বাস্তব রুপে গাধার মতো পা ও ছাগলের মতো শিং থাকে।

৩. জ্যান
জ্যানরা মূলত মরুভূমি অঞ্চলে বসবাস করে থাকে। এরা সাধারণত ঘূর্ণিবায়ু বা সাদা উটের বেশ ধারণ করে চলাফেরা করে।

জ্যানদের সঙ্গে গৌলদের চরম শত্রুতা রয়েছে। তারা মানুষের প্রতি বন্ধুত্যপূর্ণ আচরন করে থাকে। এছাড়া বলা হয়ে থাকে, জ্যানরা হলো জ্বীন জাতির মধ্যে সর্বপ্রথম যারা মানবজাতীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলো।

৪. মারিদ
মারিদ হলো জ্বীনদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রজাতি। ইসলাম পূর্ববর্তী সময়কাল থেকেই আরবের বিভিন্ন লোককথায় এর অস্তিত্বের কথা জানা যায়।

আরবি ভাষায় ‘মারিদ’ শব্দের অর্থ হলো –দানব। সুবিশাল আকৃতি ও শক্তিমত্তার জন্য তাদেরকে এই নামে ডাকা হয়। তারা নিজেদের খেয়াল-খুশী মতো সবকিছু করে থাকে। তবে এরা প্রচন্ড শক্তিশালী ও বিশাল আকৃতির হওয়া স্বত্তেও এদেরকে বশ করার মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ করিয়ে নেয়া যায়।

৫. ইফ্রিত
ইফ্রিতরা নিজেদের ক্ষমতা ও চতুরতার জন্য সুপরিচিত। এদের বিশাল ডানা থাকে ও এরা আগুন ছুঁড়তে সক্ষম। এরা সাধারণত স্বভাবে হিংস্র ও দুষ্ট হয়ে থাকে।

ইফ্রিতরা ভূগর্ভে বসবাস করে বলে বলা হয়। এরা সাধারণত অন্যান্য জ্বীনদের বিয়ে করলেও কখনো কখনো মানুষদেরও বিয়ে করে থাকে।

এরা জাদুর ব্যবহার করতে পারে। সাধারণ কোনো অস্ত্র তাদের ক্ষতি করতে পারেনা। তবে মানুষ চেষ্টা করলে তাদের বশে আনতে পারে, এমনকি হত্যাও করতে পারে।

৬. শিক
জ্বীন জাতির মধ্যে অন্যতম একটি প্রজাতি হলো শিক। এরা কিছুটা দানবীয় আকৃতির হলেও তুলনামূলক ভাবে দূর্বল হয়ে থাকে। এ কারণে শিকদের নিম্ন প্রজাতির জ্বীন বলে গণ্য হয়।

৭. নাসনাস
জ্বীনদের মধ্যে দূর্বল আরেকটি প্রজাতি হলো নাসনাস। শিক ও মানুষের মিলনের ফলে এদের সৃষ্টি বলে বলা হয়ে থাকে। এরা দেখতে অর্ধেক মানুষের মত ও বাকি অর্ধেক পশুর মতো।

‘এক হাজার এক রাত’ বইয়ে বলা হয়েছে যে, নাসনাসদের মুখমণ্ডলের একাংশ, এক হাত ও এক পা মানুষের মত হয়ে থাকে। বাকিটা হয়ে থাকে পশুর মতো।

৮. পালিস
পালিসরা সাধারণত মরুভূমিতে বসবাস করে। এরা মানুষকে ঘুমের মধ্যে আক্রমণ ও পায়ের পাতা চাটার মাধ্যমে রক্ত শোষণ করে থাকে বলে বলা হয়। এদের বুদ্ধিমত্তা খুবই কম থাকায় খুব সহজেই এদের বোকা বানানো যায়।

৯. সি’লাত
সি’লাত প্রজাতির জ্বীনেরা খুবই বুদ্ধিমান হয়ে থাকে। এরা খুব সহজেই মানুষের রুপ ধারণ করতে পারায় মানুষের অনেক ক্ষতি করে থাকে। পারস্য লোককথায় এ প্রজাতির জ্বীন নিয়ে অনেক গল্প রয়েছে।

১০. শয়তান
শয়তান হচ্ছে জ্বীন জাতির মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ও ক্ষতিকর প্রজাতি। ইসলাম ধর্মে এই জ্বীনের কথা বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। মহান আল্লাহর নির্দেশ মেনে হযরত আদম (আঃ)’কে সেজদা করতে রাজি না হওয়া ও তাকে এবং বিবি হাওয়া’কে বিভ্রান্ত করে গন্দম খেতে উৎসাহিত করা ইবলিস এই শয়তান প্রজাতিরই।

জ্বীন প্রজাতির মধ্যে এরা বিশেষ ক্ষমতা প্রাপ্ত। মানুষকে ধোঁকা দিয়ে ভুলপথে নিয়ে যাওয়া এদের প্রধান উদ্দেশ্য।

সূত্র: লাইফ ইন সৌদি এরাবিয়া ডটনেট

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত