মেয়েদের আপত্তিকর ভিডিও গোপনে ধারণ করে অর্থ আদায়, আটক ২

প্রকাশিত: সেপ্টে ৯, ২০২১ / ১০:৫৪অপরাহ্ণ
মেয়েদের আপত্তিকর ভিডিও গোপনে ধারণ করে অর্থ আদায়, আটক ২

কুমিল্লার তিতাসে নারীদের আপত্তিকর দৃশ্য গোপনে ভিডিও ধারণ করার অভিযোগে দুই যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন এলাকাবাসী।

ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাত ১১টায় উপজেলার সাতানী ইউনিয়নের বারকাউনিয়া গ্রামে। আটককৃতরা হলো- একই গ্রামের আক্তার হোসেনের ছেলে নাহিদ (২০) এবং হবি মিয়ার ছেলে কাইয়ুম (১৯)।

আটককৃতরা বিভিন্ন সময়ে গ্রামের নারীদের আপত্তিকর দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ইউটিউব ও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করত বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় বারকাউনিয়া গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের স্ত্রী শাহানাজ আক্তার মায়া বাদী হয়ে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার বাদী শাহানাজ আক্তার মায়া বলেন, আমি আমার পুত্রবধূ ও দুই বছরের নাতিকে নিয়ে বাড়িতে থাকি। এরই মধ্যে আমার বিবাহিত মেয়ে আমার বাড়িতে বেড়াতে আসে।

বুধবার দিনের কোনো এক সময় আমার পুত্রবধূ ও আমার মেয়ে তাদের সন্তানদের বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় নাহিদ ও কাইয়ুম গোপনে ভিডিও ধারণ করে এবং উক্ত ভিডিও ইন্টারনেটের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইউটিউব ও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আমার কাছে টাকা দাবি করে। তারা বলে- রাতের মধ্যে টাকা দিতে হবে, আমরা বারকাউনিয়া বাজারে অপেক্ষায় আছি।

বিষয়টি আমি আমার স্বজনদের জানালে তারা বারকাউনিয়া বাজার থেকে নাহিদ ও কাইয়ুমকে আটক করে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে তিতাস থানা থেকে পুলিশ গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসে।

মামলার সাক্ষী মনির জানান, তিন মাস আগে আমি মালয়েশিয়া থাকতে আমার স্ত্রীর সঙ্গে ইমুতে ভিডিও কলে কথা বলি। এ সময় ঘরের বেড়ার ফাঁক দিয়ে ভিডিও ধারণ করে। আমি বাড়িতে আসি আজ তিন মাস হয়। গত তিন দিন পূর্বে আমার ম্যাসেঞ্জারে ভিডিওটি পাঠিয়ে আমার কাছে টাকা দাবি করে। তখন মোবাইলের সূত্র ধরে নাহিদ ও কাইয়ুমকে আমি শনাক্ত করি।

তিতাস থানার ওসি সুধীন চন্দ্র দাস বলেন, ৯৯৯ নম্বরের মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই এবং জনতা কর্তৃক আটক নাহিদ ও কাইয়ুমকে থানায় নিয়ে আসি। এ ঘটনায় শাহানাজ আক্তার মায়া বাদী হয়ে পর্নো আইনে মামলা করেছেন। আগামীকাল শুক্রবার সকালে আটককৃতদের কুমিল্লা আদালতে প্রেরণ করা হবে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন