১০০ বছর পর আবার আসছে ভয়াবহ সৌরঝড়

প্রকাশিত: সেপ্টে ৯, ২০২১ / ০২:৪১অপরাহ্ণ
১০০ বছর পর আবার আসছে ভয়াবহ সৌরঝড়

আসছে ভয়াবহ সৌরঝড়। ইংরেজিতে যাকে বলা হয় সোলার স্টর্ম। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এর কারণে গোটা বিশ্বের ইন্টারনেট ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। আর সেটি কয়েক মাস স্থায়ী হতে পারে। এ ধরনের সৌরঝড়কে বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয়, করোনাল মাস ইজেকশান বা সিএমই। যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। খবর আনন্দবাজারের।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক একটি গবেষণা এই অশনিসঙ্কেত দিয়েছে। গবেষণাপত্রটি পিয়ার রিভিউ পর্যায় পেরিয়ে একটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান গবেষণা পত্রিকায় প্রকাশের অপেক্ষায়। গত মঙ্গলবার অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাপত্রটি।

গবেষকরা জানিয়েছেন, এবার যে সৌরঝড় আসছে তেমন ভয়ঙ্কর সৌরঝড়ের ঝাপটা আধুনিক পৃথিবীকে এর আগে সইতে হয়েছিল ১৮৫৯ ও ১৯২১ সালে। সেক্ষেত্রে বলা যায়, ১০০ বছর পর ফের ভয়ঙ্কর সৌরঝড়ের মুখোমুখি হতে চলেছে পৃথিবী। ১৯২১ সালে ভয়ঙ্কর সৌরঝড় আছড়ে পড়ায় পৃথিবীর যা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল তা অভূতপূর্ব। বিজ্ঞানের পরিভাষায় তার নাম ‘ক্যারিংটন এফেক্ট’।

সেই সৌরঝড়ের আঘাতে পৃথিবীকে ঘিরে থাকা বিশাল চৌম্বক ক্ষেত্রে বড় বড় ফাটল ধরেছিল। আর তার ফাঁক গলে ঢুকেছিল অত্যন্ত বিষাক্ত সৌরকণা আর মহাজাগতিক রশ্মি। টেলিগ্রাফের তার সশব্দে ফেটে গিয়ে দাউদাউ করে জ্বলেছিল দীর্ঘ সময় ধরে।

গবেষকরা লিখেছেন, ‘এমন ভয়ঙ্কর সৌরঝড় বা সিএমইর পৃথিবীর উপর আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা প্রতি দশকে থাকে ১.৬ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ। এবার তেমনই একটি সিএমইর আঘাত সইতে হতে পারে পৃথিবীকে। যার সম্ভাবনা খুব বেশি।’

১৮৫৯ এবং ১৯২১ সালের মতো তীব্রতায় অতটা না হলেও ১৯৮৯ সালের মার্চে যে সিএমই ধেয়ে এসেছিল পৃথিবীর দিকে তার আঘাতে কানাডার গোটা কুইবেক প্রদেশে টানা ৯ ঘণ্টা ‘ব্ল্যাক আউট’ হয়েছিল।

মূল গবেষক ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সঙ্গীতা আবদু জ্যোতি বলেছেন, ‘যেটা সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় তা হলো, আমরা করোনা মহামারির জন্য যেমন আদৌ প্রস্তুত ছিলাম না এক্ষেত্রেও তেমনটাই ঘটার আশঙ্কা। কারণ, বায়ুমণ্ডলে কখন ভয়ঙ্কর সৌরঝড় উঠবে তার পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয় এখনও। তবে এটুকু বলা যায়, সেই ভয়ঙ্কর সৌরঝড়ের পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসতে অন্তত ১৩ ঘণ্টা সময় লাগবে।’

গবেষকদের আশঙ্কা, এবার যে ভয়ঙ্কর সিএমই আসছে প়ৃথিবীর দিকে তার আঘাতে সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে যাওয়া ইন্টারনেটের যাবতীয় ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন