পড়ে গেলেন পরী মণি

প্রকাশিত: আগ ১৯, ২০২১ / ০৪:২৭অপরাহ্ণ
পড়ে গেলেন পরী মণি

রাজধানীর বনানী থানায় মাদ’কদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের হওয়া মামলায় চিত্রনায়িকা পরী মণির জামিন আবেদন নাকচ করে আরও একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। উভয় আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আতিকুর রহমানের আদালত আজ বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১২টা এ আদেশ দেন।

আদেশের পর সিএমএম আদালতের আট তলা ভবন থেকে পরী মণিকে বের করা হয়। এর আগে থেকে নিচে গারদ থানার সামনে শতশত সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক পরী মণির জন্য অপেক্ষায় থাকেন। এর ফলে ভিড়ে হাঁটার মতো পরিস্থিতিও ছিল না। এর মধ্যেই পরী মণিকে পুলিশ কঠোর নিরাপত্তা দিয়ে গারদ থানায় নেওয়ার জন্য রওনা দেয়। পুলিশ বেষ্টিত হয়ে হাঁটার সময় পরী মণি হুড়োহুড়িতে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যান। এতে হাতে-পায়ে ব্যথা পান তিনি। পরে নারী পুলিশেরা তাঁকে তুলে আবার গারদ থানায় প্রবেশ করান।’

এর আগে আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকার সিএমএম আদালতে পরী মণিকে হাজির করা হয়। গতকাল পরী মণিকে আবারও পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

এর আগে গত শুক্রবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে পরী মণিকে সিএমএম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক গোলাম মোস্তফা।

গত ৪ আগস্ট পরী মণিকে তাঁর বনানীর বাসা থেকে আটক করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। অভিযানে নতুন মা’দক এলএসডি, ম’দ ও আইস উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করে র‍্যাব। তাঁর ড্রয়িংরুমের কাবার্ড, শোকেস, ডাইনিংরুম এবং বেডরুমের সাইড টেবিল ও টয়লেট থেকে বিপুল ম’দের বোতল উদ্ধার করা হয় বলেও দাবি করা হয়। এরপর রাত ৮টা ১০ মিনিটে পরী মণিকে তাঁর বাসা থেকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে র‌্যাব সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে গাড়িটি কুর্মিটোলায় র‌্যাব সদর দপ্তরে পৌঁছায়। সেখানে রাত ১২টা পর্যন্ত পরী মণিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরদিন ৫ আগস্ট বিকেল ৫টা ১২ মিনিটে র‌্যাব সদর দপ্তর থেকে পরী মণি, প্রযোজক ও অভিনেতা মো. নজরুল ইসলাম রাজ ও তাঁদের দুই সহযোগীকে নিয়ে কালো একটি মাইক্রোবাসে করে বনানী থানায় রওনা দেয় র‌্যাবের একটি দল।

এরপর র‍্যাব বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় পরী মণি ও তাঁর সহযোগী দীপুর বিরুদ্ধে মা’দকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে৷ রাত ৮টা ২৪ মিনিটে পরী মণি ও তাঁর সহযোগীকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর বনানী থানার মামলায় তাঁদের সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এ সময় আসামিপক্ষে তাঁদের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাঁদের চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এরপর ১০ আগস্ট পরী মণি ও তাঁর সহযোগী দীপুকে আদালতে হাজিরের পর ফের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করে মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাঁদের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

দুই দফায় রিমান্ড শেষে গত ১৩ আগস্ট পরী মণি ও তাঁর সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপুকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁদের জামিন আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সূত্র : এনটিভি অনলাইনের

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন