জিএম কাদের বললেন একসঙ্গে দুটি দল করার সুযোগ নেই

প্রকাশিত: জুলা ১৪, ২০২১ / ০৭:১১অপরাহ্ণ
জিএম কাদের বললেন একসঙ্গে দুটি দল করার সুযোগ নেই

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের বলেছেন, কারও দল করার বিষয়ে আমাদের আপত্তি নেই। তবে একসঙ্গে দুটি দল কেউ করতে পারবেন না। গঠনতন্ত্রে এটা স্পষ্ট লেখা আছে।

বুধবার কাকরাইলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি একথা বলেন।

এর আগে জিএম কাদের জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন।

এরশাদের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় পার্টি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে ঢাকাসহ সারা দেশে কোরআন খতম, দোয়া এবং মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দিনের শুরুতে কাকরাইলে পার্টি কার্যালয়ে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পন করেন জিএম কাদেরসহ দলটি নেতাকর্মীরা।

জাতীয় পার্টির নাম ব্যবহার করে একটি কমিটি গঠন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জিএম কাদের বলেন, এটা আমরা জানি না। এটা আমরা গ্রহণ করি নাই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাজনৈতিক দল করার অধিকার যে কোনো মানুষেরই আছে।তবে কেউ একসঙ্গে দুটি দল করতে পারবেন না। কেউ দল করতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন দরকার হয়। সেটা না হলে নির্বাচন করতে পারবেন না।

লকডাউনের সমালোচনায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, এই লকডাউন কখনো কার্যকর হবে না। অসহায় দরিদ্র মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করেই লকডাউন দিতে হয়। গ্রামের মানুষ খাবার না পেলে কাজে বের হবে। তাই লকডাউন দেওয়ার আগে গরিব-দুখী-অসহায় মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা করতে হবে।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, টিকার অভাবে জনগণ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। গ্রামের মানুষ টিকা পাচ্ছে না। সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডাক্তার নেই, নার্স নেই, ওষুধ নেই। চিকিৎসার অভাবে প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে।

জিএম কাদের বলেন, মেগা উনয়নের কথা বলা হচ্ছে। অথচ জনগণ চিকিৎসা, খাদ্য নিরাপত্তা পাচ্ছে না। মানুষ মারা যাচ্ছে আর সরকার উন্নয়নের কথা বলছে। আমরা এমন উন্নয়ন চাই না। এমন দেশ চাই না।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, দলীয় বিবেচনা না করে করোনাকালে প্রকৃত দরিদ্র পরিবার প্রতি মাসে অন্তত ১০ হাজার টাকা সহায়তা দিতে হবে। তাহলেই বিপর্যস্ত মানুষ ঘর থেকে বের হবে না, লকডাউন কার্যকর হবে।

তিনি বলেন, জিডিপির শতকরা একভাগ বিতরণ করলেই করোনাকালে কর্মহীন মানুষ পরিবারসহ ভালো থাকবে।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ১০ হাজার মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি।

তার অর্থায়ন এবং জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ব্যবস্থাপনায় খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে জিএম কাদের বলেন, সরকার শুধু আশ্বাস দিয়ে বলে করোনার টিকা আসছে। কিন্তু কখন আসবে, কীভাবে আসবে বা কোথা থেকে আসবে তা বলতে পারছে না।

তাই করোনার টিকা নিয়ে দেশবাসীর মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। সারা বিশ্ব যখন ভ্যাকসিন দিয়ে করোনা মোকাবিলা করছে, তখন আমাদের দেশ লকডাউন দিয়ে করোনা মোকাবিলা করতে চাচ্ছে। এটা কখনোই যুক্তিযুক্ত নয়। করোনা পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।

তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোতে ডাক্তার, নার্স, অষুধসহ প্রয়োজনীয় জনবলের অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে। জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেনের ব্যবস্থা নেই। এ কারণেই দিনে দিনে করোনায় মৃত্যুর হার বেড়ে যাচ্ছে। অথচ আমরা এক বছর আগেই বলেছি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। লকডাউন নয়, চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে।

সরকারের অবহেলায় করোনার এমন ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সারা বিশ্ব যখন জিডিপির ৫ থেকে ৬ ভাগ চিকিৎসা ব্যবস্থায় খরচ করে, তখন আমরা মাত্র ১ ভাগ খরচ করছি। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের বিশাল অংশই লুটপাট হচ্ছে। তাই আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত হচ্ছে না।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন