‘ড্রাগন ম্যান’-এর খোঁজ মিলল উত্তর-পূর্ব চীনে

প্রকাশিত: জুন ২৭, ২০২১ / ১১:৪০পূর্বাহ্ণ

মানুষের নিকটতম আত্মীয় হিসেবে এত দিন প্রচলিত ছিল নিয়ানডার্থালের নাম। তবে সাম্প্রতিক আবিষ্কার বিজ্ঞানের সেই তত্ত্বকে নাকচ করে দিতে পারে। সম্প্রতি মানুষের নতুন এক আত্মীয়ের খোঁজ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

উত্তর-পূর্ব চীনে এক প্রাণীর মাথার খুলি খুঁজে পেয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণার পর তাঁরা বলছেন, এটি মানুষের কোনো প্রাচীন প্রজাতির মাথা। এই মানব প্রজাতির নাম দেওয়া হয়েছে হোমো লোঙ্গি। চলতি ভাষায় ড্রাগন ম্যান। মানুষের নিকটতম আত্মীয় হিসেবে এযাবৎ যে নিয়ানডার্থালের নাম প্রচলিত ছিল, তাকেই এবার সরিয়ে দেবে এই ড্রাগন ম্যান।

১৯৩০ সালেই হারবিন ক্রানিয়ামের খোঁজ মিলেছিল। কিন্তু শোনা যায়, জাপানি সেনার নজর এড়াতে তা প্রায় ৮৫ বছর লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। ২০১৮ সালে মাটি খুঁড়ে ফের তা উদ্ধার করা হয়। চীনের হেবেই জিও ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জি কিয়াংয়ের হাতে তা তুলে দেওয়া হয়েছিল।

লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের তরফে ক্রিস স্ট্রিনজার বলেছেন, ‘আমাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই হারবিন গ্রুপ হোমো স্যাপিয়েন্সের অনেক কাছের। নিয়ানডার্থালের চেয়েও বেশি কাছের। এর মানে হলো হারবিনের নিকটতম পূর্বপুরুষ আর মানুষের নিকটতম পূর্বপুরুষ একই। এরাই আমাদের সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।’

উত্তর-পূর্ব চীনে খুঁজে পাওয়া সেই মাথার খুলিটি প্রায় এক লাখ ৪৬ হাজার বছরের পুরনো। এর মস্তিষ্কের আকার আধুনিক মানুষের মস্তিষ্কের আকারের সমান। তবে চোখের গর্তগুলো আরো বড়, মুখ আরো চওড়া, ভ্রু আরো মোটা এবং দাঁত আরো অনেক বড়।

হোমো লোঙ্গির নাম দেওয়া হয়েছে ‘লং জিয়াং’ কথাটি থেকে, যার আক্ষরিক অর্থ ‘ড্রাগন নদী’। যে মাথার খুলিটি খুঁজে পাওয়া গেছে, বিজ্ঞানীদের অনুমান সেটি ৫০ বছর বয়সী এক পুরুষের, যে বনজঙ্গলে বাস করতেন। ডাঙায় বসবাসকারী শিকারি হিসেবেই পরিচিতি ছিল এদের। এশিয়াজুড়েই হোমো লোঙ্গিদের যাতায়াত ছিল। এরা অনেক বেশি প্রতিকূল আবহাওয়া সহ্য করতে পারত বলেই দাবি গবেষকদের। সূত্র : দ্য ওয়াল।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন