রাজশাহী মেডিকেলের করোনা ওয়ার্ডে আরও ১৮ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২১ / ১১:৫৭পূর্বাহ্ণ
রাজশাহী মেডিকেলের করোনা ওয়ার্ডে আরও ১৮ জনের মৃত্যু

দেশে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হয়েছে। সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে এই করোনা ইউনিটে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ‘আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন সময়ে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আট জন করোনা পজিটিভ ছিলেন। অন্য ১০ জন করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। মৃত ১৮ জনের মধ্যে ১৩ জন রাজশাহীর, চার জন নওগাঁর ও একজন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও আট জন নারী। সব মিলিয়ে চলতি মাসের ২৪ দিনে রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ২৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী মেডিকেলে করোনা পজিটিভ হয়ে যে আট জনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁরা সবাই রাজশাহী বিভাগের বাসিন্দা। এর মধ্যে রাজশাহী জেলার সাত জন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের একজন। আর উপসর্গ নিয়ে যে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁরাও রাজশাহী বিভাগের। তাঁদের মধ্যে রাজশাহী জেলার ছয় জন ও নওগাঁর চার জন।

হাসপাতাল পরিচালক জানান, করোনা ইউনিটে ২৪ ঘণ্টায় যে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের মধ্যে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মৃত্যু হয়েছে চারজনের। এ ছাড়া ২২ নম্বর ওয়ার্ডে পাঁচজন, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে একজন, ১ নম্বর ওয়ার্ডে চার জন, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে একজন এবং ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে তিন জন মারা গেছেন। এর মধ্যে ৬১ বছরের ঊর্ধ্বে ছয় জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে পাঁচ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে তিন জন এবং ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে চার জন রয়েছেন।

হাসপাতাল পরিচালক শামীম ইয়াজদানী আরও জানান, আইসিইউয়ের ২০টি শয্যা এবং কেবিনের ১৫টি শয্যা ছাড়াও হাসপাতালের ১০টি ওয়ার্ড এখন করোনা ডেডিকেটেড ওয়ার্ড। সব মিলিয়ে করোনা ইউনিটে এখন শয্যা সংখ্যা ৩৫৭টি। বর্তমানে ৩৫৭ শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি রয়েছে ৪০৪ জন। বাড়তি রোগীদের ওয়ার্ডগুলোর মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে সেখানেও তাদের অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাদের অক্সিজেন স্যাচুরেশন একদম নিচে নেমে গেছে, অর্থাৎ যাদের অক্সিজেন দেওয়া প্রয়োজন, শুধু সেসব করোনা রোগীকেই ভর্তি করা হচ্ছে। আর করোনা আক্রান্ত যেসব রোগীদের অক্সিজেন দেওয়ার প্রয়োজন নেই, তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে না। বাড়িতে রেখেই চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

শামীম ইয়াজদানী জানান, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনা ইউনিটে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ৫৪ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪৩ জন। বর্তমানে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে যে ৪০৪ জন চিকিৎসা নিচ্ছে, তাদের মধ্যে ২৭২ জনই রাজশাহীর। এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫৯ জন, নাটোরের ২৬ জন, নওগাঁর ৩২ জন, পাবনার ১০ জন, কুষ্টিয়ার তিনজন, চুয়াডাঙ্গার একজন ও ঢাকার একজন রয়েছে।

এদিকে, রামেক হাসপাতালের দুটি পিসিআর ল্যাবে রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬৫৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৮৮ জনের করোনা শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহীতে শনাক্তের হার ৩৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ, নওগাঁয় ২৭ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কারণে রাজশাহী মহানগর এলাকায় আগের ঘোষিত ১৪ দিনের সর্বাত্মক লকডাউন গতকাল বুধবার রাত ১২ টায় শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সংক্রমণ না কমায় জেলা প্রশাসন লকডাউন আরও সাত দিন বাড়িয়েছে। ফলে ২১ দিনের লকডাউন শেষ হবে আগামী ৩০ জুন রাত ১২টায়।

তবে গতকাল ১৪তম দিনে ঢিলেঢালাভাবে চলেছে সর্বাত্মক লকডাউন। মহানগর এলাকায় ওষুধ ও কৃষিপণ্যের দোকান এবং জরুরি সেবার দোকান ছাড়া সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কথা থাকলেও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ছাড়া অন্যান্য এলাকায় মানা হচ্ছে না এই নিয়ম। সব ধরনের দোকানই খোলা রয়েছে। কাঁচাবাজার নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খোলা থাকলেও সেখানে উপেক্ষিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। জরুরি সেবা, রোগী পরিবহণ ও কাঁচামাল পরিবহণের সঙ্গে জড়িত যানবাহন ছাড়া মহানগর এলাকার সঙ্গে সারা দেশের সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। তবে দেশের নানা এলাকা থেকে বিভিন্ন অজুহাতে লোকজন মহানগর এলাকায় প্রবেশ করছে। নগরীতে লোকজনের চলাচল ছাড়াও রিকশা ও অটোরিকশার চলাচলও রয়েছে স্বাভাবিক।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন