ঢাকা উত্তরে নতুন ভাবনায় আ.লীগ

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নতুন করে ভাবছে আওয়ামী লীগ। প্রায় এক বছর স্থগিত থাকার পর এ নির্বাচনের পথ খুলেছে। আগে এ পদে এক ব্যবসায়ী নেতাকে মনোনয়ন দিলেও এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের পরিচিত কাউকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে ভাবছে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

এক্ষেত্রে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিমের কথা ভাবা হচ্ছে। এ ছাড়া আগে মনোনয়ন পাওয়া বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম ও সাবেক মেয়র প্রয়াত আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হকও রয়েছেন আলোচনায়।

ডিএনসিসির মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর পর গত বছরের জানুয়ারিতে উপনির্বাচনের তফসিল হলে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলামকে মনোনয়ন দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। পরে সীমানা জটিলতায় আদালতের আদেশে নির্বাচনটি স্থগিত হয়ে যায়। গতকাল বুধবার হাইকোর্ট এ স্থগিতাদেশ তুলে নেন।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে ডিএনসিসির উপনির্বাচনের বিষয়ে তার ঘনিষ্ঠ কয়েক নেতার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। ওই আলোচনায় তিনি জানিয়েছেন, বিএনপি এ উপনির্বাচনে অংশ না নিলে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের একাধিক প্রার্থী থাকবেন। যিনি বিজয়ী হয়ে আসতে পারবেন তাকেই অভিবাদন জানানো হবে। মেয়র পদে শুরুতে আতিকুল ইসলামকে মনোনয়ন দিলেও এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তা পরিবর্তন হতে পারে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিমকে মনোনয়ন দেওয়া হলে দলের নেতাকর্মীরা খুশিমনে নির্বাচনী প্রচারে নামবেন বলেও মত দেন তিনি। যদিও ব্যাবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর পক্ষ থেকে আতিকুল ইসলামকে প্রার্থী করার বিষয়ে দাবি আছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি প্রয়াত আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হকও নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগের এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, আদালতের রায়ে ডিএনসিসি নির্বাচন যেহেতু এক বছর পিছিয়েছে, তাই নতুন পরিস্থিতিতে নতুন কাউকে মেয়র পদে প্রার্থী করা হতে পারে।

জাহাঙ্গীর কবির নানক ও বাহাউদ্দীন নাছিম এবার দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচন মনিটরিংয়ের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন মনোনয়নবঞ্চিত আরও দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান এবং বিএম মোজাম্মেল হক। নির্বাচনের পর দলের যৌথসভায় শেখ হাসিনা বলেন, যারা মনোনয়ন পাননি, তাদের তিনি অন্য দায়িত্ব দেবেন। দলে অনেক কাজ আছে, সবাইকে তিনি কাজ করার সুযোগ দিতে চান।

মেয়র পদে নানক-নাছিমের বিষয়টি আলোচনায় কেন জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা বলেন, জাহাঙ্গীর কবির নানকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার দীর্ঘদিনের। তিনি ছাত্রলীগ ও যুবলীগের শীর্ষ নেতা ছিলেন। ঢাকা-১৩ আসনে দুবারের এমপি ছিলেন। আসনটি মোহাম্মদপুর-আদাবর ও শেরেবাংলানগর এলাকার একাংশ নিয়ে গঠিত। এই এলাকাটি ডিএনসিসির মধ্যে পড়েছে। এজন্যই ডিএনসিসিতে মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ভাবা হচ্ছে নানককে।

অন্যদিকে ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দেশে আসার পর থেকেই তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক রাজনীতি করছেন কৃষিবিদ বাহাউদ্দীন নাছিম। দীর্ঘদিন স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এখনো সংগঠনটি মূলত তার নির্দেশনায় পরিচালিত হয়। দেশের কৃষিবিদদের মধ্যেও দারুণ জনপ্রিয় তিনি। ডিএনসিসিভুক্ত মিরপুর ও উত্তরার কিছু অংশে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের আধিপত্য রয়েছে। এ বিষয়টি মাথায় রেখেই বাহাউদ্দীন নাছিমের কথা ভাবা হচ্ছে।

ডিএনসিসির সাবেক মেয়র প্রয়াত আনিসুল হক খুব অল্প দিনেই সফলতা ও জনপ্রিয়তা পান। তেজগাঁওয়ে রাস্তার ওপর গড়ে ওঠা ট্রাক স্ট্যান্ড উচ্ছেদ এবং গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকায় যত্রতত্র গাড়ি রাখা বন্ধ এবং যানজট নিরসনে সফলতা লাভ করে সারাদেশে সুনাম কুড়াতে সক্ষম হন। বেশ কিছু কাজের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি সাড়া জাগিয়েছিলেন। এর অনেক কাজই এখনো বাস্তবায়ন হচ্ছে। নগরবাসীকে সুন্দর শহরের স্বপ্ন দেখানো আনিসুল হকের প্রতি ঢাকাবাসীর এখনো সহানুভূতি ও শ্রদ্ধা রয়েছে। সেক্ষেত্রে এ করপোরেশনে তার স্ত্রী রুবানা হককে মনোনয়ন দিলে ভোটের হিসাবে কিছুটা এগিয়ে থাকা যাবে বলেও ভাবছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবানা হক নিজেও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে নির্বাচন করতে তার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন বলেও গণভবন সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে ব্যবসায়ী নেতা আতিকুল হকের মনোনয়ন রাখার পক্ষেও আওয়ামী লীগের অনেকে। তাদের মতে, আতিকুল হক মনোনয়ন পাওয়ার পর জনসংযোগও শুরু করেছিলেন; কিন্তু আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মকা-ে সক্রিয় ছিলেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারে নেমেছেন। এ ছাড়া বিজিএমইএসহ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো থেকেও আতিকুলকে প্রার্থী করার তদবির রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, ডিএনসিসি উপনির্বাচন অনুষ্ঠানে আর আইনগত কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন উচ্চ আদালত। এখন পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে নির্বাচন কমিশন। কমিশন আবার তফসিল ঘোষণা করলে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা। মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নতুন কেউ হবেন না আতিকই থাকবেন, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর পর্যন্ত।

সূত্র: আমাদের সময়

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত